Wednesday, January 12, 2022

শিব প্রাতঃস্মরণ স্তোত্রম্

 শিব প্রাতঃস্মরণ স্তোত্রম্ // Powerful Shiva Mantra // Shiva Pratahsmaraniya Stotram

Shiva Pratahsmaraniya Stotram


শিব মন্ত্র পাঠে আমাদের জীবনের যেকোন সমস্যা সমাধান হয়। মহাদেব শিবের অনেক মন্ত্র রয়েছে তার মধ্যে এই প্রাতঃস্মরণ স্তোত্রম্ অন‍্যতম শক্তিশালী মন্ত্র। এই মন্ত্র আপনি সকাল বেলা পাঠ করবেন। যদি কেউ এই মন্ত্র কানেও শোনে তাহলেও সমান ফল লাভ হয়।


শিব প্রাতঃস্মরণ স্তোত্রম্


প্রাতঃস্মরামি ভবভীতিহরং সুরেশং

           গঙ্গাধরং বৃষভবাহনমম্বিকেশম্।

খট্বাঙ্গশূলবরদাভয়হস্তমীশং

           সংসাররোগহরমৌষধমদ্বিতীয়ম্।। 


প্রাতর্নমামি গিরীশং গিরিজাদ্ধদেহং

  স্বর্গস্থিতিপ্রলয়কারণমাদিদেবম্।

বিশ্বেশ্বরং বিজিতবিশ্বমনোহভিরামং

সংসাররোগহরমৌষধমদ্বিতীয়ম্।। 


প্রাতর্ভজামি শিবমেকমনন্তমাদ‍্যং

            বেদান্তভেদরহিতং পুরুষং মহান্তম্।

নামাদিভেদরহিতং ষড়ভাবশূন‍্যং

            সংসাররোগহরমৌষধমদ্বিতীয়ম্।।


প্রাতঃ সমুত্থায় শিবং বিচিন্ত‍্য

             শ্লোকত্রয়ং যেহনুদিনং পঠন্তি।

তে দুঃখজাতং বহুজন্মসঞ্ছিতং

             হিত্বা পদং যান্তি তদেব শম্ভোঃ।।


ইতি শিব প্রাতঃস্মরণ স্তোত্রম্ সম্পূর্ণম


Tuesday, January 11, 2022

পঞ্চতত্ত্ব এবং প্রনাম মন্ত্র

 পঞ্চতত্ত্ব // Panchatatva

panchatatva


আপনরা অনেকেই পঞ্চতত্ত্ব সম্পর্কে শুনেছেন। কিন্তু এই পঞ্চতত্ত্ব বিষয়টি কি তা আপনাদের জানা রয়েছে কি? আজ আমরা এই বিষয়ে বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করব।


আলোচনার বিষয় বস্তু


১. পঞ্চতত্ত্ব কাকে বলে?

২. পঞ্চতত্ত্বের ব‍্যাখ‍্যা।

৩. এই পঞ্চতত্ত্বের আবির্ভাব কেন হল।

৪. এই পাঁচটি তত্ত্বের পরিচয় কি?

৫. পঞ্চতত্ত্বের প্রনাম মন্ত্র এবং এর বাংলা অর্থ।



পঞ্চতত্ত্ব কাকে বলে?


গৌড়িয় বৈষ্ণব ধর্মমতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ রস আস্মাদনের জন‍্য এই ধরাধামে স্বয়ং পাঁচটি অবতারে আবির্ভূত হন। এই পাঁচটি অবতারকে একসঙ্গে পঞ্চতত্ত্ব বলা হয়।


পঞ্চতত্ত্বের ব‍্যাখা : 


পঞ্চতত্ত্ব হল এক বস্তু। এদের মধ্যে কোন ভেদ নেই। এনারা হলেন অদ্বৈতত্ত্ব। এই চিন্ময় জগতের সব কিছুই পরম। কোথাও কোন ভেদাভেদ নেই। শুধুমাত্র রস আস্বাদনের উদ্দেশ্যে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বারংবার এই ধরা ধামে অবতীর্ণ হন। তিনি একেকবার একেক অবতারে অবতীর্ণ হন কিন্তু সকল অবতারই কিন্তু শ্রীকৃষ্ণের অবতার। অর্থাৎ প্রতিটি অবতারেরই মূল সত্ত্বা হলেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ। 


পঞ্চতত্ত্ব এক্ বস্তু নাহি কিছু ভেদ।

রস আস্বাদিতে তবু বিবিধ বিভেদ।।



এই পঞ্চতত্ত্বের আবির্ভাব কেন হল?


ভগবান শ্রীকৃষ্ণ রস আস্বাদনে ভিন্ন অবতারে ধরাধামে আবির্ভূত হয়েছেন বিভিন্ন সময়ে।


যেমন :

 রাধা ও কৃষ্ণ এক এবং অভিন্ন কিন্তু লীলার জন‍্যই তারা আবার শ্রীচৈতন‍্যের মধ্যে এক হয়েছেন। শ্রীকৃষ্ণই রাধার ভাবযুক্ত হয়ে তিনটি স্বাদ আস্বাদনে চৈতন‍্য জন্ম নিয়েছেন। এই তিনটি স্বাদ হল : 


১. রাধার মহিমা কিরুপ তা তিনি আস্বাদন করবেন।

২. রাধার প্রেমের মাধুর্য কিরুপ তা তিনি জানবেন।

৩. কৃষ্ণ প্রেম অনুভব করে রাধার কি সুখ তাও তিনি জানবেন।


৩ / ৪. এবার তিন নম্বর ও চার নম্বর একসঙ্গে আলোচনা করব।


পঞ্চতত্ত্ব প্রনাম মন্ত্র : 


পঞ্চতত্ত্বাত্মকং কৃষ্ণং ভক্তরূপস্বরূপকম্।

ভক্তাবতারং ভক্তাখ্যং নমামি ভক্তশক্তিকম্।।


বাংলা অর্থ : পঞ্চতত্ত্বের আত্মা শ্রীকৃষ্ণ যিনি ভক্তরুপ, ভক্তস্বরুপ,ভক্তাবতার,ভক্তাখ‍্যা বা শুদ্ধভক্ত এবং ভক্তশক্তি রুপে বিরাজমান,তাহার চরনে প্রনাম জানাই।


তাহলে মন্ত্রে আমরা ভগবানের পাঁচ রুপ বা অবতার দেখতে পাচ্ছি। সেগুলো হল ভক্তরুপ, ভক্তস্বরুপ,ভক্তাবতার,ভক্তাখ‍্যা বা শুদ্ধভক্ত এবং ভক্তশক্তি। তাহলে এক এক করে দেখেনি ভগবান কোন কোন রুপে ধরাধামে ধরা দিয়েছিলেন।


ভক্তরুপ : চৈতন্য মহাপ্রভু। এই চৈতন্য রুপ হল ভগবানের নিজের।

ভক্তস্বরুপ : নিত‍্যানন্দ প্রভু। প্রভু নিত‍্যানন্দ হলেন স্বয়ং বলরাম।

ভক্তাবতার : শ্রী অদ্বৈত আচার্য। শ্রী অদ্বৈত আচার্য হলেন বিষ্ণুর ভক্ত অবতার।

ভক্তাখ‍্যা বা শুদ্ধভক্ত : শ্রীবাস প্রভু। শ্রীবাস প্রভু হলেন নারদ মুনির অবতার।

ভক্তশক্তি : গদাধর প্রভু। গদাধর প্রভু হলেন শ্রীমতি রাধা রাণীর প্রকাশ।


গদাধর প্রভু এবং শ্রীবাস প্রভু হলেন শক্তিতত্ত্ব। এদের চরনে তুলসী পাতা অর্পন করতে হয় না আর চৈতন্য মহাপ্রভু,নিত‍্যানন্দ প্রভু এবং শ্রী অদ্বৈত আচার্য হলেন বিষ্ণুতত্ত্ব। এদের চরনে তুলসীপাতা অর্পন করবেন।


তাহলে আশাকরি আপনাদের সামনে পঞ্চতত্ত্বের রহস‍্য উন্মোচন হল। 


Friday, January 7, 2022

লোকনাথ মন্ত্র

 Loknath Baba Mantras / লোকনাথ বাবার মন্ত্র

Loknath Baba mantra



লোকনাথ বাবার মহীমার কথা আমরা কে না জানি। আমরা প্রত‍্যেকে ঘরে ঘরে লোকনাথ বাবার পূজা করি। আজ আমরা বাবার কয়েকটি মন্ত্র নিয়ে বলব। আজ আমরা যে সমস্ত লোকনাথ মন্ত্র নিয়ে আলোচনা করব : 



১. লোকনাথ ধ‍্যান মন্ত্র।

২. পুষ্পাঞ্জলি মন্ত্র।

৩. হোমমন্ত্র।

৪. প্রনাম মন্ত্র।





১. লোকনাথ ধ‍্যান মন্ত্র 


ওম শিবকল্প মহাযোগী জটাজুট সমননীতম।

আজানুলম্বিত ভুজঙ দন্ডকমন্ডলু শোভিতম।।

শ্বেতবস্ত্র পরিধানাঙ তাপনাশাঙ লোকেস্বরম।

শ্বেতপদমানসা স্থিতঙ ত্রিকালনজং মহেস্বরম।।

ত্বমেব ব্রহ্মা,বিষ্ণু ত্বমেব,ত্বমেব শিব শঙ্করং।

সচ্চিদানন্দ স্বরুপায় পূর্ণব্রহ্ম রূপঙ স্বয়ং।।



২. পুষ্পাঞ্জলি মন্ত্র 


বন্দেহঙ করুনাসিন্ধো।

লোকনাথ চারনাম্বুজম।।

সর্বসিদ্ধি প্রদঙ দেব।

ধর্মকামার্থ মোক্ষদাম।।


৩. হোমমন্ত্র 


এতত সাজ‍্য বিল্বপত্রম,

ওম নমস্তে সর্বরুপায়,

লোকনাথ পরমাত্মনে স্বাহা।।


৪. প্রনাম মন্ত্র 


ওঁম যোগীন্দ্রায় নমস্তুভ্যং ত্যাগীস্বরায় বৈ নমঃ

ভুমানন্দ স্বরূপায় লোকনাথায় নমো নমঃ,

নমামি বারদীচন্দ্রং নন্দন কাননেস্মরং হরিম ।

নমামি ত্রিলোকনাথাং লোকনাথাং কল্পতরুম


ওঁ নমঃ শিবায় শান্তায় কারনত্রয়হেতবে ।

নিবেদয়ামি চাত্মানং গতিস্তং পরমেশ্বরঃ

নমস্তে গুরুরূপায় নমস্তে ত্রীকাল দরশিনে

নমস্তে শিবরূপায় ব্রহ্মাত্মনে নমো নমঃ


জয় বাবা লোকনাথ, জয় মা লোকনাথ,

জয় শিব লোকনাথ, জয় ব্রহ্ম লোকনাথ,

জয় গুরু লোকনাথ।

ওম শান্তি, ওম শান্তি, ওম শান্তি, ওম।

Monday, August 30, 2021

২০২১ সালের দুর্গা পূজার নির্ভূল নির্ঘন্ট

         ২০২১ সালের দুর্গা পূজার নির্ভূল নির্ঘন্ট



এবছর তথা ২০২১ সালের বাঙ্গালীর শ্রেষ্ঠ উৎসব দূর্গা পূজা প্রায় আসন্ন। হাতে মাত্র আর কয়েক দিন। এর মধ্যেই রয়েছে করোনার তৃতীয় ঢেউের ভ্রুকুটি। আপনারা আশাকরি সমস্ত সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে এবারের শারদীয়ায় মেতে উঠবেন। যাই হোক এবারের এই আলোচনায় রইল ২০২১ সালের দূর্গা পূজার নির্ভূল নির্ঘন্ট এবং দেবীর কিসে আগমন এবং কিসে গমন ও তার ফলাফল।



বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুসারে ২০২১ সালের দূর্গা পূজার নির্ঘন্টঃ



মহালয়া :


অমাবস্যা তিথি আরম্ভ :


বাংলা : ১৮ আশ্বিন।

ইংরেজি : ৫ অক্টোবর।

বার : মঙ্গলবার।

সময় : সন্ধ্যা ৭টা ০৬ মিনিট।


অমাবস্যা তিথি শেষ :


বাংলা– ১৯ আশ্বিন।

ইংরেজি– ৬ অক্টোবর।

বার : বুধবার।

সময় : বিকেল ৪টে ৩৫ মিনিট।



পঞ্চমী :


পঞ্চমী তিথি আরম্ভ :

বাংলা : ২২ আশ্বিন।

ইংরেজি– ৯ অক্টোবর।

বার : শনিবার।

সময় : ভোর ৪টে ৫৭ মিনিট।


পঞ্চমী তিথি শেষ :


বাংলার : ২৩ আশ্বিন।

ইংরেজি : ১০ অক্টোবর।

বার : রবিবার।

সময় : রাত ২টো ১৫।


ষষ্ঠী :


ষষ্ঠী তিথি আরম্ভ :


বাংলা : ২৩ আশ্বিন।

ইংরেজি : ১০ অক্টোবর।

বার : রবিবার।

সময় : রাত ২টো ১৬ মিনিট।


ষষ্ঠী তিথি শেষ–


বাংলা : ২৪ আশ্বিন।

ইংরেজি : ১১ অক্টোবর।

বার : সোমবার।

সময় : রাত ১১টা ৫১ মিনিট।


সপ্তমী :


সপ্তমী তিথি আরম্ভ :


বাংলা : ২৪ আশ্বিন।

ইংরেজি : ১১ অক্টোবর।

বার : সোমবার।

সময় : রাত ১১টা ৫২ মিনিট।


সপ্তমী তিথি শেষ :


বাংলা : ২৫ আশ্বিন।

ইংরেজি : ১২ অক্টোবর।

বার : মঙ্গলবার।

সময় : রাত ৯টা ৪৮ মিনিট।


অষ্টমী : 


অষ্টমী তিথি আরম্ভ :


বাংলা : ২৫ আশ্বিন।

ইংরেজি : ১২ অক্টোবর।

বার : মঙ্গলবার।

সময় : রাত ৯টা ৪৯ মিনিট।


অষ্টমী তিথি শেষ :


বাংলা : ২৬ আশ্বিন।

ইংরেজি : ১৩ অক্টোবর।

বার : বুধবার।

সময় : রাত ৮টা ০৮ মিনিট।


সন্ধিপূজা : 


শুরু : রাত ৭টা ৪৪ মিনিট।

শেষ : রাত ৮টা ৩২ মিনিট।

বলিদান : রাত ৮টা ০৮ মিনিট।


নবমী :


নবমী তিথি আরম্ভ :


বাংলা : ২৬ আশ্বিন।

ইংরেজি : ১৩ অক্টোবর।

বার : বুধবার।

সময় : রাত ৮টা ৯ মিনিট।


নবমী তিথি শেষ :


বাংলা : ২৭ আশ্বিন।

ইংরেজি : ১৪ অক্টোবর।

বার : বৃহস্পতিবার।

সময় : রাত ৬টা ৫৩ মিনিট।


দশমী :


দশমী তিথি আরম্ভ :


বাংলা : ২৭ আশ্বিন।

ইংরেজি : ১৪ অক্টোবর।

বার : বৃহস্পতিবার।

সময় : রাত ৬টা ৫৪ মিনিট।


দশমী তিথি শেষ :


বাংলা : ২৮ আশ্বিন।

ইংরেজি : ১৫ অক্টোবর।

বার : শুক্রবার।

সময় : সন্ধ্যা ৬টা ০৩ মিনিট।


২০২১ সালের দেবী দুর্গার আগমন ও গমন এবং ফলাফল : 


আগমন : ঘোটক।

ফলাফল : ছত্রভঙ্গ।


গমন : দোলা।

ফলাফল : মোড়ক অর্থাৎ মহামারি।




Monday, August 23, 2021

5 Most Important Mantras of Lord Shiva You Should Chant

Lord Shiva Mantras


shiva mantra



বলা হয়ে থাকে মহাদেব শিব খুব অল্পতেই খুশি হন। ভোলেনাথকে প্রসন্ন করবার জন‍্য শিব মন্ত্র পাঠ করলে আপনার জীবন থেকে কেটে যায় সমস্ত রকম সংকট এবং কেটে যায় সব রকমের নেতিবাচক শক্তি। জীবন হয়ে ওঠে মধুর ও আনন্দময়। আজ আমরা পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ শিব মন্ত্র নিয়ে আলোচনা করব এবং জানব কিভাবে এই মন্ত্র গুলো পাঠ করব এবং এই মন্ত্র গুলো পাঠ করে কি ফল পাওয়া যায়। 


             ১. শিব পঞ্চাক্ষর মন্ত্র :


মন্ত্র : ঔঁ নমঃ শিবায়


অর্থ : আমি ভগবান শিবকে প্রনাম করি।


শিব মন্ত্রের অন্যতম মন্ত্র হল শিব পঞ্চাক্ষর মন্ত্র। মহাদেব শিবের পাঁচ মুখ থেকে এই পঞ্চাক্ষর মন্ত্রের সৃষ্টি। 


উপকারিতা : এই মন্ত্র পাঠে সমস্ত রকম নেতিবাচক শক্তি দূর হয়। মানসিক শক্তি বৃদ্ধি হয়। ভক্তদের ইন্দ্রের ওপর নিয়ন্ত্রণ আসে। ক্ষতিকারক গ্রহ নক্ষত্রের প্রভাব থেকে মুক্ত রাখে। আর্থিক কষ্ট দূর হয় এবং সংসারে শান্তি আসে। সন্তান প্রাপ্তিতে বাধা এলে এই মন্ত্র পাঠে সেই বাধা দূর হয়।


          ২.মহা মৃত‍্যুঞ্জয় মন্ত্র : 


মন্ত্র : 

             ঔঁ ত্রৈয়ম্বকম্ য়জামহে

               সূগন্ধিম্ পূষ্টিবর্ধনম্ ।

                উর্বারূকমিব বন্ধনাম্

             মৃত্যুরমোক্ষিয় মামৃতাত ॥


অর্থ : যার তিনটি নেত্র রয়েছে যিনি জগতের লালন পালন করেন। তার কাছে প্রার্থনা করি যে তিনি যেন আমাদের মৃত‍্যুর বন্ধন থেকে মুক্ত করে দেন। ঠিক যেমন একটি শশা পরিপক্ব হয়ে তার শাখা প্রশাখার বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে যায়। ঠিক তেমনই আমরা যখন জ্ঞানের আলোকে পরিপক্ব হয়ে উঠব তখন যেন আমরা মুক্তি লাভ থেকে বঞ্চিত না হই অর্থাৎ মোক্ষলাভ করতে পারি।


মহা মৃত‍‍্যুঞ্জয় নামের মধ‍্যেই এর মাহাত্ম লুকিয়ে রয়েছে। এই মহা মৃত্যুঞ্জয় কথাটির অর্থ হল মৃত‍্যুর ওপর জয় লাভ করা।


উপকারিতা : এই মন্ত্র পাঠে মৃত‍্যু ভয় দূর হয় এবং দূরারোগ‍্য ব‍্যাধি ঠিক হয় খুব তাড়াতাড়ি। বাধা দূর হয়ে কর্মক্ষেত্রে এবং ব‍্যবসা ক্ষেত্রে উন্নতি হয়।



           ৩. শিব রুদ্র মন্ত্র :


মন্ত্র : ঔঁ নমঃ ভগবতে রুদ্রায়ঃ।


অর্থ : আমি ভগবান রুদ্রকে প্রনাম জানাই।


খুব তাড়াতাড়ি মহাদেবের কৃপা পাবার জন‍্য এই রুদ্র মন্ত্র খুবই উপযোগী।


উপকারিতা : দীর্ঘদিনের কোন মনের ইচ্ছা পূরন করতে এই মন্ত্র করা হয়। এই মন্ত্র নিয়মিত পাঠে পুরোনো আটকে থাকা কাজ খুব তাড়াতাড়ি সম্পন্ন হয়।



         ৪. শিব গায়েত্রী মন্ত্র :


মন্ত্র : ওম তৎপুরুষায়া বিদ্মহে মহাদেবায়ে  ধিমাহি তন্নো রুদ্রায় প্রচোদয়াত।


অর্থ : আমি ত‍ৎপুরুষের কাছে প্রার্থনা করি আমাকে "বুদ্ধি এবং জ্ঞানের" দিকে পরিচালিত করতে প্রেরণা প্রদান করুন। 


আপনারা সকলেই জানেন শিব গায়েত্রী মন্ত্র এক শক্তিশালী শিব মন্ত্র। ঠিক তেমনই শিব গায়েত্রী মন্ত্র হল এক শক্তিশালী শিব মন্ত্র।


উপকারিতা : আপনার শরীর ও মনে শান্তি আনতে এবং সমস্ত বাধা দূর করতে এই শিব গায়েত্রী মন্ত্র খুবই উপকারি।


           ৫. ওম নমস্তে আস্তু ভগবান - শিব স্তোত্রম


মন্ত্র :

 

 নমস্তে আস্তু ভগবানয়া

 বিশ্বেশ্বরায়া মহাদেবায়া

 ত্রয়ম্বকায়া ত্রিপুরান্তকায়া

 ত্রিকালাগ্নি - কালায়া

 কালাগ্নি - রুদ্রায়া

 নীলকান্তায়া মৃত্যুঞ্জয়া

 সর্বেশ্বরায়া সদাশিবায়া

 শ্রীমান মহাদেবায়া নমঃ।


অর্থ : আমি ভগবান শিবকে প্রণাম করি, যিনি মহাবিশ্বের স্রষ্টা এবং রক্ষক, যিনি দেবতাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ, যার তিনটি চোখ আছে, যিনি তিন জগতের বিনাশকারী, যার গলা নীল, যিনি মৃত্যুর বিজয়ী , ইহো হলেন সকলের প্রভু, যিনি অনুগ্রহশীল, যিনি সর্বশ্রেষ্ঠ গুণের অধিকারী এবং যিনি দেবতাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ।


এই মন্ত্র মহা মৃত‍্যুঞ্জয় মন্ত্রের মতই শক্তিশালী।


উপকারিতা : দীর্ঘদিনের রোগ ব‍্যাধি ও মৃত্যু ভয় দূর হয় এই মন্ত্র পাঠে।


শিব মন্ত্র পাঠ করবার নিয়ম : 


1.সঠিক উচ্চারণে মন্ত্র পাঠ করবেন।


2.মন্ত্র জপের সংখ্যা নির্দিষ্ট রাখুন। অর্থাৎ আজকে যদি আপনি 108 বার জপ করেন তবে কালকেও 108 বার জপ করুন। জপের সংখ্যা কখনই কমাবেন না। দরকারে বাড়াতে পারেন।


3.ধূপ ও প্রদীপ জ্বালিয়ে এই মন্ত্র জপ করবেন।


4.পূর্ব দিকে মুখ করে এই মন্ত্র পাঠ করুন।


5.প্রতিদিন একই সময় এই মন্ত্র পাঠ করতে হয়।


6.কুশের আসনে বসে জপ করুন।


7.জপ করবার সময় মহাদেবের মূর্তি, ছবি বা শিব লিঙ্গের সামনে বসে জপ করুন।


8.মন ও শরীর শুদ্ধ করে তবেই জপে বসুন।


9.শুধুমাত্র রুদ্রাক্ষের মালা নিয়েই এই মন্ত্র জপ করুন।


10.মন শান্ত করে তবেই জপে বসুন।


11.সোমবার থেকে এই মন্ত্র জপ করা শুরু করুন।


12.দিনে অন্তত 108 বার এই মন্ত্র জপ করুন।


Saturday, August 21, 2021

হিন্দু ধর্মের দশ মহাবিদ্যা ও তার বীজ মন্ত্র

Dus Mahavidya and Their Mantras



Dus mahavidya


Picture Credit : Wikipedia.


দশ মহাবিদ্যা হল হিন্দু ধর্মের এমন এক রহস্য যার সম্পর্কে আপনি শুনে থাকলেও এর বিশদে হয়ত আপনার জানা নেই। আজ আমরা হিন্দু ধর্মের এই দশ মহাবিদ‍্যা সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে জানব এবং জানব এই মহাবিদ্যা গুলোর বীজ মন্ত্র। 


আসুন তাহলে জেনেনি এই দশ মহাবিদ্যা আসলে কি?


দশ মহাবিদ‍্যা হল মাতা পার্বতীর দশ রুপ। খুব ভালভাবে বলতে গেলে মাতা পার্বতীর পূর্ব অবতার মহাদেব পত্নী সতীর দশ রুপ।


তাহলে এই দশ রুপ গুলি কি কি এবং কেনই বা সতীকে এই দশ রুপ ধারন করতে হয়েছিল? 


এক এক করে এই প্রশ্ন গুলির উওর খুঁজি।  প্রথমেই জেনেনি এই দশ রুপ গুলো কি কি? সতীর এই দশটি রুপ হল :


1.কালী।

2.তারা।

3.ত্রিপুর সুন্দরী।

4.ভূবনেশ্বরী।

5.ভৈরবী।

6.ছিন্নমস্তা।

7.ধূমাবতী।

8.বগলামুখী।

9.মাতঙ্গী।

10.কমলা।


এবার তাহলে বলি কেন সতীকে তার দশ রুপ ধারন করতে হয়েছিল? 


এনিয়ে এক পৌরাণিক গল্প রয়েছে। পিতা দক্ষের চরম অমতে সতী বিবাহ করেন মহাদেব শিবকে। একবার রাজা দক্ষ তার প্রাসাদে এক মাহাযোজ্ঞের আয়োজন করেন। কিন্তু তাতে তিনি শিব এবং সতীকে আমন্ত্রণ জানান নি। এই মাহা যোজ্ঞের অনুষ্ঠানে যাবার জন্য সতী স্বামী মহাদেবের কাছে যাবার জন‍্য জেদ করতে ধাকে। মহাদেব সেখানে যাবার পরিণতি কি হতে পারে অনুধাবন করে তিনি সতীকে সেখানে যেতে বারন করেন। এতে সতী ক্রুদ্ধ হয়ে কালী রুপ ধারন করে মহাদেবের ওপর অগ্নি বর্ষণ করতে থাকে। মহাদেব তাতে গুরুত্ব না দিয়ে আবার ধ‍্যানমগ্ন হলে সতী তাকে দশ দিক থেকে দশ রুপ ধারন করে ঘিরে ফেলে। মহাদেব তার চরম অনিচ্ছা সত্ত্বেও সতীকে সেখানে যাবার অনুমতী প্রদান করেন।


এবার তাহলে জেনেনি এই মাতা পার্বতীর পূর্ব অবতার সতীর দশ রুপ সম্পর্কে এবং তাদের বীজ মন্ত্র গুলো : 


কালী : দশ মহাবিদ্যার প্রথম বিদ‍্যা বা রুপ হল মা কালী। তিনি দেবী দূর্গার আরেক রুপ। মা কালীকে আমরা শ‍্যামা বা আদ‍্যাশক্তি নামেও জেনে থাকি। সতীর এই রুপ সৃষ্টি, ধ্বংস এবং শক্তির দেবী। মহাদৈত‍্যদের বধ করবার জন‍্য এই রুপ ধারন করেছিলেন মা সতী।


মা কালীর মন্ত্র : ওম ক্রিম ক্রিম ক্রিম হুম হুম হ্রীম হ্রীম দক্ষিণে কালিকে ক্রিম ক্রিম ক্রিম হুম হুম হ্রীম হ্রীম স্বাহা।


তারা : দশ মহাবিদ্যার দ্বিতীয় রুপ হল মাতারা। এই রুপ হল মা সতীর উগ্র রুপ। শুধুমাত্র হিন্দু ধর্মে না বৌদ্ধ ধর্মেও এই তারা রুপের আরাধনা প্রচলন রয়েছে। ঋষি বশিষ্ট প্রথম এই তারা রুপের আরাধনা করেন। পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার তারা পীঠে এই মা তারারই আরাধনা করা হয়। তারা পীঠের বিখ্যাত তারা সাধক হলেন সাধক বামা ক্ষ‍্যাপা। 


মা তারা মন্ত্র : ওম হ্রীম স্ট্রীম হুম ফট।



ত্রিপুর সুন্দরী : ত্রিপুর সুন্দরী রুপ হল মহাবিদ্যার তৃতীয় রুপ বা বিদ‍্যা। ত্রিপুর সুন্দরীর আর দুই নাম হল ষোড়শী অথবা ললিতা। এছাড়াও মা ত্রিপুর সুন্দরী রাজরাজেশ্বর নামেও পরিচিত। এই রুপ মাতা পার্বতীর ষোল বর্ষীয় যুবতীর রুপ বলে এই রুপকে ষোড়শী বলা হয়ে থাকে। ত্রিপুরার উদয়পুরের রাধা কিশোর গ্রামে এই ত্রিপুর সুন্দরীর মন্দির রয়েছে।


ত্রিপুর সুন্দরী মন্ত্র : ওঁ আইম হ্রীম শ্রীম ত্রিপুর সুন্দরিয়ায় নমঃ।


ভূবেনশ্বরী : এই মহাবিদ্যার চতুর্থ রুপ হল মাতা ভূবনেশ্বরী। মাতা ভূবনেশ্বরী হল এই পৃথিবীর শক্তির প্রতীক। পুত্র সন্তান লাভের উদ্দেশ্যে এর পূজা করা হয়। এছাড়া এর পূজা করলে ধন প্রাপ্তি হয়। 


ভূবনেশ্বরী মন্ত্র : ওঁ আইম হ্রীম শ্রীম নমঃ।


ভৈরবী : মা ভৈরবী রুপ হল মহাবিদ্যার পঞ্চম রুপ। এর অপর নাম ত্রিপুর ভৈরবী। মাতা ভৈরবীর আরাধনায় সমস্ত বন্ধন মুক্ত হয়। এছাড়াও মাতা ভৈরবীর কৃপা পেলে শিব চেতনা উন্মুক্ত হয়।


ভৈরবী মন্ত্র : ওম হ্রীম ভৈরবী কালৌম হ্রীম স্বাহা।


ছিন্নমস্তা : দশ মহাবিদ্যার ষষ্ঠ রুপ হল ছিন্নমস্তা। দেবী পার্বতীর এই ভয়ংকর রুপের এক হাতে খর্গ আরেক হাতে তার নিজের মস্তক যা তিনি কেটেছেন। তার ছিন্ন কন্ঠ নালী দিয়ে তিনটি রক্ত ধারা রেরোচ্ছে যা পান করছে তার ছিন্ন মস্তক ও তার দুই সহচরী।


ছিন্নমস্তা মন্ত্র : শ্রীম হ্রীম ক্লীম আইম বজরা বৈরোচনিয়াই হুম হুম ফট স্বাহা।


ধূমাবতী : এই মহাবিদ্যার সপ্তম তান্ত্রিক রুপ হল ধূমাবতী। এই রুপ হল মহামায়া দূর্গার প্রতীক। তিনি বৃদ্ধা ও বিধবার বেশে সজ্জিতা। দেবী ধূমাবতী প্রলয়ের প্রতীক। দেবী ধূমাবতী সাধারণত অমঙ্গলকর বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্ক যুক্ত। 


ধূমাবতী মন্ত্র : ওম ধুম ধুম ধুমাবতী দেবায়য় স্বাহা।


বগলামুখী : বগলামুখী রুপটি হল দশ মহাবিদ্যার অষ্টম রুপ। বগলামুখী হল শত্রু নাশের দেবী। মাতা সতীর এই রুপ পীতামবর নামেও পরিচিত। এই রুপের প্রতীক হল মুগুর। 


বগলামুখী মন্ত্র : ওম হ্লীম বগলামুখী দেবায়্য হ্লীম ওম নমঃ।


মাতঙ্গী : মাতঙ্গী হল এই মহাবিদ‍্যার নবম রুপ। মাতঙ্গ হল মহাদের আরেক নাম। যারা মাতা পার্বতীর এই রুপের আরাধনা করেন তারা তাদের অভীষ্ট ফল খুব তাড়াতাড়ি লাভ করে। 


মাতঙ্গী মন্ত্র : ওম হ্রীম এম ভগবতী মাতঙ্গেশ্বরী শ্রীম স্বহা।


কমলা : দশ মহাবিদ্যার শেষ রুপ হল মাতা কমলা। পার্বতীর এই রুপ হল লক্ষীর রুপ। সমুদ্র মন্থনের সময় মাতা কমলার সৃষ্টি। কমলা হল শুদ্ধ চৈতন্যের দেবী। 


কমলা মন্ত্র : ওম হ্রীম অষ্ট মহালক্ষ্ম্যায় নমঃ।


দশ মহাবিদ্যা ও তার মন্ত্র নিয়ে বিশদে জানতে চাইলে আমাদের Video দেখুন :








Jay Sri Ram

শিব প্রাতঃস্মরণ স্তোত্রম্

  শিব প্রাতঃস্মরণ স্তোত্রম্ // Powerful Shiva Mantra // Shiva Pratahsmaraniya Stotram শিব মন্ত্র পাঠে আমাদের জীবনের যেকোন সমস্যা সমাধান হয়।...