Monday, August 30, 2021

২০২১ সালের দুর্গা পূজার নির্ভূল নির্ঘন্ট

         ২০২১ সালের দুর্গা পূজার নির্ভূল নির্ঘন্ট



এবছর তথা ২০২১ সালের বাঙ্গালীর শ্রেষ্ঠ উৎসব দূর্গা পূজা প্রায় আসন্ন। হাতে মাত্র আর কয়েক দিন। এর মধ্যেই রয়েছে করোনার তৃতীয় ঢেউের ভ্রুকুটি। আপনারা আশাকরি সমস্ত সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে এবারের শারদীয়ায় মেতে উঠবেন। যাই হোক এবারের এই আলোচনায় রইল ২০২১ সালের দূর্গা পূজার নির্ভূল নির্ঘন্ট এবং দেবীর কিসে আগমন এবং কিসে গমন ও তার ফলাফল।



বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুসারে ২০২১ সালের দূর্গা পূজার নির্ঘন্টঃ



মহালয়া :


অমাবস্যা তিথি আরম্ভ :


বাংলা : ১৮ আশ্বিন।

ইংরেজি : ৫ অক্টোবর।

বার : মঙ্গলবার।

সময় : সন্ধ্যা ৭টা ০৬ মিনিট।


অমাবস্যা তিথি শেষ :


বাংলা– ১৯ আশ্বিন।

ইংরেজি– ৬ অক্টোবর।

বার : বুধবার।

সময় : বিকেল ৪টে ৩৫ মিনিট।



পঞ্চমী :


পঞ্চমী তিথি আরম্ভ :

বাংলা : ২২ আশ্বিন।

ইংরেজি– ৯ অক্টোবর।

বার : শনিবার।

সময় : ভোর ৪টে ৫৭ মিনিট।


পঞ্চমী তিথি শেষ :


বাংলার : ২৩ আশ্বিন।

ইংরেজি : ১০ অক্টোবর।

বার : রবিবার।

সময় : রাত ২টো ১৫।


ষষ্ঠী :


ষষ্ঠী তিথি আরম্ভ :


বাংলা : ২৩ আশ্বিন।

ইংরেজি : ১০ অক্টোবর।

বার : রবিবার।

সময় : রাত ২টো ১৬ মিনিট।


ষষ্ঠী তিথি শেষ–


বাংলা : ২৪ আশ্বিন।

ইংরেজি : ১১ অক্টোবর।

বার : সোমবার।

সময় : রাত ১১টা ৫১ মিনিট।


সপ্তমী :


সপ্তমী তিথি আরম্ভ :


বাংলা : ২৪ আশ্বিন।

ইংরেজি : ১১ অক্টোবর।

বার : সোমবার।

সময় : রাত ১১টা ৫২ মিনিট।


সপ্তমী তিথি শেষ :


বাংলা : ২৫ আশ্বিন।

ইংরেজি : ১২ অক্টোবর।

বার : মঙ্গলবার।

সময় : রাত ৯টা ৪৮ মিনিট।


অষ্টমী : 


অষ্টমী তিথি আরম্ভ :


বাংলা : ২৫ আশ্বিন।

ইংরেজি : ১২ অক্টোবর।

বার : মঙ্গলবার।

সময় : রাত ৯টা ৪৯ মিনিট।


অষ্টমী তিথি শেষ :


বাংলা : ২৬ আশ্বিন।

ইংরেজি : ১৩ অক্টোবর।

বার : বুধবার।

সময় : রাত ৮টা ০৮ মিনিট।


সন্ধিপূজা : 


শুরু : রাত ৭টা ৪৪ মিনিট।

শেষ : রাত ৮টা ৩২ মিনিট।

বলিদান : রাত ৮টা ০৮ মিনিট।


নবমী :


নবমী তিথি আরম্ভ :


বাংলা : ২৬ আশ্বিন।

ইংরেজি : ১৩ অক্টোবর।

বার : বুধবার।

সময় : রাত ৮টা ৯ মিনিট।


নবমী তিথি শেষ :


বাংলা : ২৭ আশ্বিন।

ইংরেজি : ১৪ অক্টোবর।

বার : বৃহস্পতিবার।

সময় : রাত ৬টা ৫৩ মিনিট।


দশমী :


দশমী তিথি আরম্ভ :


বাংলা : ২৭ আশ্বিন।

ইংরেজি : ১৪ অক্টোবর।

বার : বৃহস্পতিবার।

সময় : রাত ৬টা ৫৪ মিনিট।


দশমী তিথি শেষ :


বাংলা : ২৮ আশ্বিন।

ইংরেজি : ১৫ অক্টোবর।

বার : শুক্রবার।

সময় : সন্ধ্যা ৬টা ০৩ মিনিট।


২০২১ সালের দেবী দুর্গার আগমন ও গমন এবং ফলাফল : 


আগমন : ঘোটক।

ফলাফল : ছত্রভঙ্গ।


গমন : দোলা।

ফলাফল : মোড়ক অর্থাৎ মহামারি।




Monday, August 23, 2021

5 Most Important Mantras of Lord Shiva You Should Chant

Lord Shiva Mantras


shiva mantra



বলা হয়ে থাকে মহাদেব শিব খুব অল্পতেই খুশি হন। ভোলেনাথকে প্রসন্ন করবার জন‍্য শিব মন্ত্র পাঠ করলে আপনার জীবন থেকে কেটে যায় সমস্ত রকম সংকট এবং কেটে যায় সব রকমের নেতিবাচক শক্তি। জীবন হয়ে ওঠে মধুর ও আনন্দময়। আজ আমরা পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ শিব মন্ত্র নিয়ে আলোচনা করব এবং জানব কিভাবে এই মন্ত্র গুলো পাঠ করব এবং এই মন্ত্র গুলো পাঠ করে কি ফল পাওয়া যায়। 


             ১. শিব পঞ্চাক্ষর মন্ত্র :


মন্ত্র : ঔঁ নমঃ শিবায়


অর্থ : আমি ভগবান শিবকে প্রনাম করি।


শিব মন্ত্রের অন্যতম মন্ত্র হল শিব পঞ্চাক্ষর মন্ত্র। মহাদেব শিবের পাঁচ মুখ থেকে এই পঞ্চাক্ষর মন্ত্রের সৃষ্টি। 


উপকারিতা : এই মন্ত্র পাঠে সমস্ত রকম নেতিবাচক শক্তি দূর হয়। মানসিক শক্তি বৃদ্ধি হয়। ভক্তদের ইন্দ্রের ওপর নিয়ন্ত্রণ আসে। ক্ষতিকারক গ্রহ নক্ষত্রের প্রভাব থেকে মুক্ত রাখে। আর্থিক কষ্ট দূর হয় এবং সংসারে শান্তি আসে। সন্তান প্রাপ্তিতে বাধা এলে এই মন্ত্র পাঠে সেই বাধা দূর হয়।


          ২.মহা মৃত‍্যুঞ্জয় মন্ত্র : 


মন্ত্র : 

             ঔঁ ত্রৈয়ম্বকম্ য়জামহে

               সূগন্ধিম্ পূষ্টিবর্ধনম্ ।

                উর্বারূকমিব বন্ধনাম্

             মৃত্যুরমোক্ষিয় মামৃতাত ॥


অর্থ : যার তিনটি নেত্র রয়েছে যিনি জগতের লালন পালন করেন। তার কাছে প্রার্থনা করি যে তিনি যেন আমাদের মৃত‍্যুর বন্ধন থেকে মুক্ত করে দেন। ঠিক যেমন একটি শশা পরিপক্ব হয়ে তার শাখা প্রশাখার বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে যায়। ঠিক তেমনই আমরা যখন জ্ঞানের আলোকে পরিপক্ব হয়ে উঠব তখন যেন আমরা মুক্তি লাভ থেকে বঞ্চিত না হই অর্থাৎ মোক্ষলাভ করতে পারি।


মহা মৃত‍‍্যুঞ্জয় নামের মধ‍্যেই এর মাহাত্ম লুকিয়ে রয়েছে। এই মহা মৃত্যুঞ্জয় কথাটির অর্থ হল মৃত‍্যুর ওপর জয় লাভ করা।


উপকারিতা : এই মন্ত্র পাঠে মৃত‍্যু ভয় দূর হয় এবং দূরারোগ‍্য ব‍্যাধি ঠিক হয় খুব তাড়াতাড়ি। বাধা দূর হয়ে কর্মক্ষেত্রে এবং ব‍্যবসা ক্ষেত্রে উন্নতি হয়।



           ৩. শিব রুদ্র মন্ত্র :


মন্ত্র : ঔঁ নমঃ ভগবতে রুদ্রায়ঃ।


অর্থ : আমি ভগবান রুদ্রকে প্রনাম জানাই।


খুব তাড়াতাড়ি মহাদেবের কৃপা পাবার জন‍্য এই রুদ্র মন্ত্র খুবই উপযোগী।


উপকারিতা : দীর্ঘদিনের কোন মনের ইচ্ছা পূরন করতে এই মন্ত্র করা হয়। এই মন্ত্র নিয়মিত পাঠে পুরোনো আটকে থাকা কাজ খুব তাড়াতাড়ি সম্পন্ন হয়।



         ৪. শিব গায়েত্রী মন্ত্র :


মন্ত্র : ওম তৎপুরুষায়া বিদ্মহে মহাদেবায়ে  ধিমাহি তন্নো রুদ্রায় প্রচোদয়াত।


অর্থ : আমি ত‍ৎপুরুষের কাছে প্রার্থনা করি আমাকে "বুদ্ধি এবং জ্ঞানের" দিকে পরিচালিত করতে প্রেরণা প্রদান করুন। 


আপনারা সকলেই জানেন শিব গায়েত্রী মন্ত্র এক শক্তিশালী শিব মন্ত্র। ঠিক তেমনই শিব গায়েত্রী মন্ত্র হল এক শক্তিশালী শিব মন্ত্র।


উপকারিতা : আপনার শরীর ও মনে শান্তি আনতে এবং সমস্ত বাধা দূর করতে এই শিব গায়েত্রী মন্ত্র খুবই উপকারি।


           ৫. ওম নমস্তে আস্তু ভগবান - শিব স্তোত্রম


মন্ত্র :

 

 নমস্তে আস্তু ভগবানয়া

 বিশ্বেশ্বরায়া মহাদেবায়া

 ত্রয়ম্বকায়া ত্রিপুরান্তকায়া

 ত্রিকালাগ্নি - কালায়া

 কালাগ্নি - রুদ্রায়া

 নীলকান্তায়া মৃত্যুঞ্জয়া

 সর্বেশ্বরায়া সদাশিবায়া

 শ্রীমান মহাদেবায়া নমঃ।


অর্থ : আমি ভগবান শিবকে প্রণাম করি, যিনি মহাবিশ্বের স্রষ্টা এবং রক্ষক, যিনি দেবতাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ, যার তিনটি চোখ আছে, যিনি তিন জগতের বিনাশকারী, যার গলা নীল, যিনি মৃত্যুর বিজয়ী , ইহো হলেন সকলের প্রভু, যিনি অনুগ্রহশীল, যিনি সর্বশ্রেষ্ঠ গুণের অধিকারী এবং যিনি দেবতাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ।


এই মন্ত্র মহা মৃত‍্যুঞ্জয় মন্ত্রের মতই শক্তিশালী।


উপকারিতা : দীর্ঘদিনের রোগ ব‍্যাধি ও মৃত্যু ভয় দূর হয় এই মন্ত্র পাঠে।


শিব মন্ত্র পাঠ করবার নিয়ম : 


1.সঠিক উচ্চারণে মন্ত্র পাঠ করবেন।


2.মন্ত্র জপের সংখ্যা নির্দিষ্ট রাখুন। অর্থাৎ আজকে যদি আপনি 108 বার জপ করেন তবে কালকেও 108 বার জপ করুন। জপের সংখ্যা কখনই কমাবেন না। দরকারে বাড়াতে পারেন।


3.ধূপ ও প্রদীপ জ্বালিয়ে এই মন্ত্র জপ করবেন।


4.পূর্ব দিকে মুখ করে এই মন্ত্র পাঠ করুন।


5.প্রতিদিন একই সময় এই মন্ত্র পাঠ করতে হয়।


6.কুশের আসনে বসে জপ করুন।


7.জপ করবার সময় মহাদেবের মূর্তি, ছবি বা শিব লিঙ্গের সামনে বসে জপ করুন।


8.মন ও শরীর শুদ্ধ করে তবেই জপে বসুন।


9.শুধুমাত্র রুদ্রাক্ষের মালা নিয়েই এই মন্ত্র জপ করুন।


10.মন শান্ত করে তবেই জপে বসুন।


11.সোমবার থেকে এই মন্ত্র জপ করা শুরু করুন।


12.দিনে অন্তত 108 বার এই মন্ত্র জপ করুন।


Saturday, August 21, 2021

হিন্দু ধর্মের দশ মহাবিদ্যা ও তার বীজ মন্ত্র

Dus Mahavidya and Their Mantras



Dus mahavidya


Picture Credit : Wikipedia.


দশ মহাবিদ্যা হল হিন্দু ধর্মের এমন এক রহস্য যার সম্পর্কে আপনি শুনে থাকলেও এর বিশদে হয়ত আপনার জানা নেই। আজ আমরা হিন্দু ধর্মের এই দশ মহাবিদ‍্যা সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে জানব এবং জানব এই মহাবিদ্যা গুলোর বীজ মন্ত্র। 


আসুন তাহলে জেনেনি এই দশ মহাবিদ্যা আসলে কি?


দশ মহাবিদ‍্যা হল মাতা পার্বতীর দশ রুপ। খুব ভালভাবে বলতে গেলে মাতা পার্বতীর পূর্ব অবতার মহাদেব পত্নী সতীর দশ রুপ।


তাহলে এই দশ রুপ গুলি কি কি এবং কেনই বা সতীকে এই দশ রুপ ধারন করতে হয়েছিল? 


এক এক করে এই প্রশ্ন গুলির উওর খুঁজি।  প্রথমেই জেনেনি এই দশ রুপ গুলো কি কি? সতীর এই দশটি রুপ হল :


1.কালী।

2.তারা।

3.ত্রিপুর সুন্দরী।

4.ভূবনেশ্বরী।

5.ভৈরবী।

6.ছিন্নমস্তা।

7.ধূমাবতী।

8.বগলামুখী।

9.মাতঙ্গী।

10.কমলা।


এবার তাহলে বলি কেন সতীকে তার দশ রুপ ধারন করতে হয়েছিল? 


এনিয়ে এক পৌরাণিক গল্প রয়েছে। পিতা দক্ষের চরম অমতে সতী বিবাহ করেন মহাদেব শিবকে। একবার রাজা দক্ষ তার প্রাসাদে এক মাহাযোজ্ঞের আয়োজন করেন। কিন্তু তাতে তিনি শিব এবং সতীকে আমন্ত্রণ জানান নি। এই মাহা যোজ্ঞের অনুষ্ঠানে যাবার জন্য সতী স্বামী মহাদেবের কাছে যাবার জন‍্য জেদ করতে ধাকে। মহাদেব সেখানে যাবার পরিণতি কি হতে পারে অনুধাবন করে তিনি সতীকে সেখানে যেতে বারন করেন। এতে সতী ক্রুদ্ধ হয়ে কালী রুপ ধারন করে মহাদেবের ওপর অগ্নি বর্ষণ করতে থাকে। মহাদেব তাতে গুরুত্ব না দিয়ে আবার ধ‍্যানমগ্ন হলে সতী তাকে দশ দিক থেকে দশ রুপ ধারন করে ঘিরে ফেলে। মহাদেব তার চরম অনিচ্ছা সত্ত্বেও সতীকে সেখানে যাবার অনুমতী প্রদান করেন।


এবার তাহলে জেনেনি এই মাতা পার্বতীর পূর্ব অবতার সতীর দশ রুপ সম্পর্কে এবং তাদের বীজ মন্ত্র গুলো : 


কালী : দশ মহাবিদ্যার প্রথম বিদ‍্যা বা রুপ হল মা কালী। তিনি দেবী দূর্গার আরেক রুপ। মা কালীকে আমরা শ‍্যামা বা আদ‍্যাশক্তি নামেও জেনে থাকি। সতীর এই রুপ সৃষ্টি, ধ্বংস এবং শক্তির দেবী। মহাদৈত‍্যদের বধ করবার জন‍্য এই রুপ ধারন করেছিলেন মা সতী।


মা কালীর মন্ত্র : ওম ক্রিম ক্রিম ক্রিম হুম হুম হ্রীম হ্রীম দক্ষিণে কালিকে ক্রিম ক্রিম ক্রিম হুম হুম হ্রীম হ্রীম স্বাহা।


তারা : দশ মহাবিদ্যার দ্বিতীয় রুপ হল মাতারা। এই রুপ হল মা সতীর উগ্র রুপ। শুধুমাত্র হিন্দু ধর্মে না বৌদ্ধ ধর্মেও এই তারা রুপের আরাধনা প্রচলন রয়েছে। ঋষি বশিষ্ট প্রথম এই তারা রুপের আরাধনা করেন। পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার তারা পীঠে এই মা তারারই আরাধনা করা হয়। তারা পীঠের বিখ্যাত তারা সাধক হলেন সাধক বামা ক্ষ‍্যাপা। 


মা তারা মন্ত্র : ওম হ্রীম স্ট্রীম হুম ফট।



ত্রিপুর সুন্দরী : ত্রিপুর সুন্দরী রুপ হল মহাবিদ্যার তৃতীয় রুপ বা বিদ‍্যা। ত্রিপুর সুন্দরীর আর দুই নাম হল ষোড়শী অথবা ললিতা। এছাড়াও মা ত্রিপুর সুন্দরী রাজরাজেশ্বর নামেও পরিচিত। এই রুপ মাতা পার্বতীর ষোল বর্ষীয় যুবতীর রুপ বলে এই রুপকে ষোড়শী বলা হয়ে থাকে। ত্রিপুরার উদয়পুরের রাধা কিশোর গ্রামে এই ত্রিপুর সুন্দরীর মন্দির রয়েছে।


ত্রিপুর সুন্দরী মন্ত্র : ওঁ আইম হ্রীম শ্রীম ত্রিপুর সুন্দরিয়ায় নমঃ।


ভূবেনশ্বরী : এই মহাবিদ্যার চতুর্থ রুপ হল মাতা ভূবনেশ্বরী। মাতা ভূবনেশ্বরী হল এই পৃথিবীর শক্তির প্রতীক। পুত্র সন্তান লাভের উদ্দেশ্যে এর পূজা করা হয়। এছাড়া এর পূজা করলে ধন প্রাপ্তি হয়। 


ভূবনেশ্বরী মন্ত্র : ওঁ আইম হ্রীম শ্রীম নমঃ।


ভৈরবী : মা ভৈরবী রুপ হল মহাবিদ্যার পঞ্চম রুপ। এর অপর নাম ত্রিপুর ভৈরবী। মাতা ভৈরবীর আরাধনায় সমস্ত বন্ধন মুক্ত হয়। এছাড়াও মাতা ভৈরবীর কৃপা পেলে শিব চেতনা উন্মুক্ত হয়।


ভৈরবী মন্ত্র : ওম হ্রীম ভৈরবী কালৌম হ্রীম স্বাহা।


ছিন্নমস্তা : দশ মহাবিদ্যার ষষ্ঠ রুপ হল ছিন্নমস্তা। দেবী পার্বতীর এই ভয়ংকর রুপের এক হাতে খর্গ আরেক হাতে তার নিজের মস্তক যা তিনি কেটেছেন। তার ছিন্ন কন্ঠ নালী দিয়ে তিনটি রক্ত ধারা রেরোচ্ছে যা পান করছে তার ছিন্ন মস্তক ও তার দুই সহচরী।


ছিন্নমস্তা মন্ত্র : শ্রীম হ্রীম ক্লীম আইম বজরা বৈরোচনিয়াই হুম হুম ফট স্বাহা।


ধূমাবতী : এই মহাবিদ্যার সপ্তম তান্ত্রিক রুপ হল ধূমাবতী। এই রুপ হল মহামায়া দূর্গার প্রতীক। তিনি বৃদ্ধা ও বিধবার বেশে সজ্জিতা। দেবী ধূমাবতী প্রলয়ের প্রতীক। দেবী ধূমাবতী সাধারণত অমঙ্গলকর বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্ক যুক্ত। 


ধূমাবতী মন্ত্র : ওম ধুম ধুম ধুমাবতী দেবায়য় স্বাহা।


বগলামুখী : বগলামুখী রুপটি হল দশ মহাবিদ্যার অষ্টম রুপ। বগলামুখী হল শত্রু নাশের দেবী। মাতা সতীর এই রুপ পীতামবর নামেও পরিচিত। এই রুপের প্রতীক হল মুগুর। 


বগলামুখী মন্ত্র : ওম হ্লীম বগলামুখী দেবায়্য হ্লীম ওম নমঃ।


মাতঙ্গী : মাতঙ্গী হল এই মহাবিদ‍্যার নবম রুপ। মাতঙ্গ হল মহাদের আরেক নাম। যারা মাতা পার্বতীর এই রুপের আরাধনা করেন তারা তাদের অভীষ্ট ফল খুব তাড়াতাড়ি লাভ করে। 


মাতঙ্গী মন্ত্র : ওম হ্রীম এম ভগবতী মাতঙ্গেশ্বরী শ্রীম স্বহা।


কমলা : দশ মহাবিদ্যার শেষ রুপ হল মাতা কমলা। পার্বতীর এই রুপ হল লক্ষীর রুপ। সমুদ্র মন্থনের সময় মাতা কমলার সৃষ্টি। কমলা হল শুদ্ধ চৈতন্যের দেবী। 


কমলা মন্ত্র : ওম হ্রীম অষ্ট মহালক্ষ্ম্যায় নমঃ।


দশ মহাবিদ্যা ও তার মন্ত্র নিয়ে বিশদে জানতে চাইলে আমাদের Video দেখুন :








Sunday, June 27, 2021

Hanuman Chalisa -র প্রতিটি শব্দের অর্থ

Hanuman Chalisa in Bengali with it's word by word Meaning - প্রতিটি শব্দের অর্থ সহ সম্পূর্ণ বাংলা Hanuman Chalisa - Hanuman Chalisa Lyrics


Hanuman Chalisa word by word meaning


Hanuman Chalisa হল পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী মন্ত্র। আমরা প্রায় সকলেই এই হনুমান মন্ত্র পাঠ করে থাকি। কিন্তু অধিকাংশ ভক্তরা Hanuman Chalisa with word by word meaning জানেন না। আজ আমরা এই আলোচনায় Hanuman Chalisa Lyrics এর পাশাপাশি এর প্রতিটি শব্দের অর্থ আলোচনা করব এবং এর ভেতরে লুকিয়ে থাকা রহস্য উন্মোচন করব।






         বাংলায় হনুমান চালিশা





|| দোহা ||





শ্রী গুরু চরণ সরোজ রজ নিজমন মুকুর সুধারি |



শ্রীগুরু = শ্রদ্ধেয় গুরু;  চরণ = পা;  সরোজ = পদ্ম;  রজ = ধূলিকণা;  নিজ = নিজের; মন = মন; মুকুর = আয়না;  সুধারি = পরিশুদ্ধ করি।


শ্রীগুরুর চরণ অর্থাৎ পা - এর পদ্মের ধূলিকণায় নিজের মন পরিস্কার করি।




বরণৌ রঘুবর বিমলযশ জো দাযক ফলচারি ||


 বরানৌ = বর্ণনা করি;  রঘুবর = ভগবান রাম;   বিমলা = নির্মল;  যশ = গৌরব;  জো = যা, দায়াক = দানকারী বা যা প্রদাকরে, ফাল = ফল, চার = চার।


আমি ভগবান রামের নির্মল যশ অর্থাৎ গৌরব বর্ণনা করছি যা চার ফল অর্থাৎ ধর্ম,অর্থ,কাম এবং মোক্ষ এই চার প্রকার ফল প্রদান করে।






বুদ্ধিহীন তনুজানিকে সুমিরৌ পবন কুমার |


বুদ্ধিহীন = বুদ্ধিহীন;  তনু = শরীর,  জানিকে = জেনে; সুমিরৌ= স্মরণকরে;  পবনকুমার = বায়ু দেবতার পুত্র।


নিজেকে বুদ্ধিহীন এবং নির্বল বলে বিবেচনা করে আমি পবনপুত্রের কথা স্মরণ করি।



বল বুদ্ধি বিদ্যা দেহু মোহি হরহু কলেশ বিকার্ ||


বল = শক্তি;  বুদ্ধি = বুদ্ধি;  বিদ্যা = জ্ঞান;  দেহু = দান করুন মোহি : আমাকে;  হরহু = অপসারণ বা নিরাময় ;  কলেশ = অসুস্থতা;  বিকার = অপূর্ণতা।


আমাকে শক্তি, বুদ্ধি এবং জ্ঞান প্রদান করুন এবং আমার  অসুস্থতা এবং মানসিক অসম্পূর্ণতাগুলি নিরাময় করুন বা অপসারণ করুন।



 

চৌপাঈ





জয় হনুমান জ্ঞান গুণ সাগর |


জয় = বিজয় / গৌরব;  জ্ঞান = জ্ঞান;  গুন= গুণ অর্থাৎ মহাত্ম;  সাগর = সমুদ্র;  


হে হনুমানজী আপনার জ্ঞান ও গুণ সাগরের ন‍্যায় অসীম। সাগর যেমন অসীম হনুমানজীর জ্ঞান এবং গুণও অসীম।





জয় কপীশ তিহু লোক উজাগর || এক ||


জয় = বিজয় / গৌরব ;কপীশ = এখানে দুটি শব্দ রয়েছে। কপি অর্থাৎ বাণর। এখানে বাণর বলতে বনে যারা বিচরন করে তাদের বলা হয়েছে। জন্তু বাণর নয়। আর রয়েছে ঈশ অর্থাৎ রাজা। এর পুরো অর্থ হল বানরের রাজা = হনুমান;  তিহু = তিন; লোক = জগত ; তিন লোক বলতে স্বর্গ লোক,মর্ত লোক আর পাতাল লোক। উজাগর = যশ বা কীর্তি।



জয় বাণর রাজ আপনার স্বর্গ লোক,মর্ত লোক আর পাতাল লোক এই তিন লোক জুড়ে আপনার যশ প্রসিদ্ধ রয়েছে। 



রামদূত অতুলিত বলধামা |


রাম = রামচন্দ্র; দূত = ম্যাসেঞ্জার; অতুলিত = এই শব্দটির মধ্যে দুটি শব্দ রয়েছে। তুলিত অর্থাৎ তুলা যন্ত্র মানে যা দিয়ে মাপা যায় অর্থাৎ দাঁড়িপাল্লা। এখানে অতুলিত কথাটির অর্থ হল যা মাপা যায় না বা অপরিসীম।  বল = শক্তি;  ধাম = বাস


হে রামচন্দ্রের দূত আপনার মধ্যে অপরিসীম শক্তির বাস অর্থাৎ আপনার মধ্যে অপরিসীম শক্তি রয়েছে।


অঞ্জনি পুত্র পবনসুত নামা || দুই ||


অঞ্জনি পুত্র অর্থাৎ হনুমানজীর মাতা। পবনসুত কথাটির মধ্যে দুটি শব্দ রয়েছে। পবনকে  হনুমানজীর পিতা বলে গণ‍্য করা হয়। আর সুত কথাটির অর্থ হল পুত্র। অর্থাৎ পবনপুত্র। প্রকৃতপক্ষে হনুমানজীর পিতার নাম হল কেশরী। কিন্তু এক পৌরাণিক গল্প রয়েছে হনুমানজীর জন্ম নিয়ে। হনুমানজীর জন্মে পবণের অবদান রয়েছে বলে হনুমানজীকে পবনপুত্র বলা হয়। আর সবশেষে নামা অর্থাৎ নাম।


আপনি অঞ্জনির পুত্র এবং পবনের সুত অর্থাৎ পবনের পুত্র নামেও পরিচিত।





মহাবীর বিক্রম বজরংগী |


মহা = মহান; বীর = সাহসী;  বিক্রম = বিক্রমশালী;  বজ্র = বজ্র;  অঙ্গ = শরীর।


আপনি মহান বীর, বিক্রমশালী এবং বজ্রের ন‍্যায় অঙ্গ অর্থাৎ শরীর আপনার। হনুমানজীর আরেক রুপ হল বজ্র রুপ। সেখান থেকেই তার নাম বজরঙ্গবলী। 




কুমতি নিবার সুমতি কে সংগী |তিন||


কুমতি = কু অর্থাৎ খারাপ মতি মানে বুদ্ধি;  নিবার = নিবারন করে বা নষ্ট করে বা ধ্বংস করে ; সুমতি = সু অর্থাৎ ভাল, মতি অর্থাৎ মন বা বুদ্ধি;  কে = এর;  সঙ্গী = সঙ্গী


আপনি খারাপ মন বা বুদ্ধি নিয়ে যারা চলেন তাদের নিবারন করেন বা নষ্ট করেন এবং যাদের ভাল মন বা বুদ্ধি তাদের সঙ্গে থাকেন।




কংচন বরণ বিরাজ সুবেশা |


কাঞ্চন = সোনা;  বরণ = বর্ণ  বিরাজে = অর্থাৎ বসে আছে, সুবেশা = এখানেও দুটি শব্দ রয়েছে সু মানে ভাল বেশ পোশাক।


আপনার সোনার মত বর্ণ অর্থাৎ গায়র রং এবং আপনি সুন্দর পোশাকে বিরাজ করছেন।





কানন কুংডল কুংচিত কেশা ||চার||


কানন = কান; কুংডল = কানের দুল; কুংচিত = কোকড়ানো; কেশা = চুল।


কানে আপনার দুল এবং আপনার কোকড়ান চুল।




হাথবজ্র ঔ ধ্বজা বিরাজৈ |


হাথ = হাত, বজ্র = এখানে বজ্র বলতে গদাকে বোঝান হয়েছে;  ঔ = এবং;  ধ্বজা = পতাকা;

বিরাজৈ = বিরাজ করে অর্থাৎ অবস্থান করে।


আপনার হাতে বজ্র সম গদা এবং পতাকা বিরাজ করছে।




কাংথে মূংজ জনেবূ সাজৈ || পাঁচ ||


কাংথে = কাঁথে; মূংজ = মূংজ হল একপ্রকার পবিত্র ঘাস। জনেবূ = জনেবূ হল পৈতে। সাজৈ = শোভাপায়।


আপনার কাঁধে মূংজ তৃণ দ্বারা তৈরি পৈতে শোভাপাচ্ছে।



শংকর সুবন কেসরী নন্দন |


শংকর = ভগবান শিব; সুবন = অবতার বা রুপ। আপনি ভগবান শিবের অবতার বা রুপ।

 কেসরী = হনুমানজীর পিতা হলেন কেসরী। নন্দন : পুত্র 


অর্থাৎ আপনি ভগবান শিবের অবতার এবং কেসরীর পুত্র।





তেজ প্রতাপ মহাজগ বন্দন || ছয় ||


তেজ = তেজ বা বিক্রম; প্রতাপ = শক্তি; মহা = মহান; জগ = জগৎ অর্থাৎ এই সংসার বা পৃথিবী ; বন্দন = বন্দনা করে বা পূজা করে।


আপনার তেজ প্রতাবের জন্য আপনি গোটা সংসারে পূজনীয় হন।



বিদ্যাবান গুণী অতি চাতুর |



বিদ্যাবান = বিদ‍্যাবান; গুণী = যার অনেক গুণ রয়েছে, অতি = অতিশয়, চাতুর = চতুর বা চালাক।


আপনি বিদ‍্যাবান আপনি গুণী এবং আপনি অতিশয় চতুর।



রাম কাজ করিবে কো আতুর || সাত ||


রাম = রামচন্দ্র; কাজ = কাজ; করিবে = করবে; কো = জন‍্য; আতুর = তৎপর।


আপনি শ্রীরামচন্দ্রের কার্য সম্পাদনে অর্থাৎ তার আজ্ঞা বা নির্দেশ পালন করবার জন‍্য সদা তৎপর।



প্রভু চরিত্র সুনিবে কো রসিয়া |


প্রভু = এখানে প্রভু বলতে তুলসীদাসজী শ্রীরামচন্দ্রকে বলেছেন; চরিত্র : চরিত্র অর্থাৎ গুণগান বা শ্রীরাম চন্দ্রের গুণগান; কো = তে; রসিয়া : আনন্দিত হওয়া।


শ্রীরামচন্দ্রের গুণগান শুনে আপনার মন আনন্দিত হয়।



রাম লখন সীতা মন বসিয়া || আট ||


রাম লখন সীতা মন = বলতে হৃদয়; বসিয়া = এখানে বসিয়া বলতে অবস্থান করে।


এর দু রকম মানে হতে পারে। আপনি রামজী; লক্ষনজী এবং সীতা মাতার হৃদয়ে সর্বদা অবস্থান করেন  অথবা  আপনার হৃদয়ে এনারা অবস্থান করে।



বাংলা অনুবাদ  : প্রভু শ্রী রামচন্দ্রের চরিত কথার রসগ্রাহী শ্রোতা আপনি আপনার হৃদয়ের শ্রী রাম,লক্ষণ ও সীতার বসতি।



সূক্ষ্ম রূপধরি সিয়হি দিখাবা |


সূক্ষ্ম = ছোট;রূপ = রুপ;ধরি = ধরে; সিয়হি = সীতা মাকে; দিখাবা = দর্শন দেন।


আপনি অতি সূক্ষ অর্থাৎ ছোট রুপ ধারন করে সীতা মাকে দর্শন দিয়েছিলেন।


বাংলা অনুবাদ  : রাবণ যখন সীতামাকে অপহরণ করে অশোক বাটিকাতে আটকে রেখে ছিলেন তখন হনুমানজীকে তাকে খুঁজতে খুঁজতে আশোক বাটিকাতে পৌছে যান। এবং সীতামা যাতে তাকে দেখে ভয় না পেয়ে যান তার জন‍্য তিনি সূক্ষ রুপ ধারন করে তার সামনে আসেন।




বিকট রূপ ধরি লংক জরাবা || নয় ||


বিকট = বিশাল বা ভয়ংকর;রূপ = রূপ;ধরি = ধরে;লংক = লঙ্কা অর্থাৎ রাবণের যে রাজ‍্য; জরাবা = জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন।


বাংলা অনুবাদ  : আপনি ভয়ংকর রূপ ধারন করে গোটা লঙ্কা জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন।



ভীম রূপ ধরি অসুর সংহারে |


ভীম = এখানে ভীম বলতে বিশাল শক্তিশালী কোন রূপ বুঝিয়েছেন তুলসীদাসজী। রূপ = রূপ;ধরি = ধারন করে; অসুর = রাক্ষস; সংহারে = সংহার করে অর্থাৎ হত‍্যা করে।


বাংলা অনুবাদ  : আপনি বিশাল শক্তিশালী রুপ ধারন করে অসুর কুলকে সংহার করেছিলেন বা হত্যা করেছিলেন।



রামচংদ্র কে কাজ সংবারে || দশ ||


রামচংদ্র;কে;কাজ; সংবারে = সম্পন্ন করা।


বাংলা অনুবাদ  : আপনি বিশাল রুপ ধারন করে অসুর কুলকে হত‍্যা করে আপনি শ্রীরাম চন্দ্রের অনেক কাজ সম্পন্ন করেছেন।




লায় সঞ্জীবন লখন জিয়ায়ে |


লায় = নিয় আসে; সঞ্জীবন = সঞ্জীবন হল এক ধরনের জীবন দায়ী জরিবুটি। লক্ষন; জিয়ায়ে = জীবিত হন বা প্রান ফিরে পান।


বাংলা অনুবাদ  : আপনার সঞ্জীবনী বুটি নিয়ে আসবার জন্য লক্ষনজী তার প্রান ফিরে পান।


রাম রাবণের যুদ্ধে একবার লক্ষন ভংঙ্কর ভাবে আহত হয়ে প্রান ত‍্যাগ করেন। তখন তাকে জীবিত করবার জন‍্য হনুমানজীর ওপর দায়িত্ব পরে সুদূর হিমালয় থেকে সঞ্জীবুনি জরিবুটি আনবার। হনুমানজী সঠিকভাবে সেই সঞ্জীবনি পাতা চিনতে না পারায় তিনি গোটা গন্ধমাদন পর্বত তুলে নিয়ে আসেন এবং লক্ষন প্রান ফিরে পান।



শ্রীরঘুবীর হরষি উরলায়ে || এগারো ||


শ্রীরঘুবীর = শ্রীরামচন্দ্র; হরষি = খুশিতে;উর = হৃদয়;লায়ে = কাছে নিয়ে আসা।


বাংলা অনুবাদ  : শ্রীরামচন্দ্র লক্ষনজীর প্রান রক্ষা করবার জন‍্য হনুমানজীকে খুশিতে তার হৃদয়ে জড়িয়ে নিয়ে ছিলেন।




রঘুপতি কীন্হী বহুত বড়ায়ী।


রঘুপতি = অর্থাৎ রঘু বংশীয়। শ্রীরামচন্দ্রের যে বংশ তাহল রঘু বংশ। এখানে রঘুপতি বলতে রামচন্দ্রকে বোঝান হয়েছে। কীন্হী = এর; বহুত = অনেক; বড়ায়ী = প্রশংসা করা।


বাংলা অনুবাদ  : রঘুবংশের পতি অর্থাৎ শ্রীরামচন্দ্র আপনার অনেক প্রশংসা করলেন


তুম মম প্রিয ভরতহি সম ভায়ী || বারো ||


তুম = তুমি;মম = আমার; প্রিয় = প্রিয় অর্থাৎ ভালোবাসার পাত্র; ভরতহি = ভরত; হি = এর; সম = সমান;ভায়ী = ভাই।


বাংলা অনুবাদ  : রঘুবংশের পতি অর্থাৎ শ্রীরামচন্দ্র আপনার অর্থাৎ হনুমানজীর অনেক প্রশংসা করে বলছেন যে তুমি আমার ছোট ভাই ভরতের সমান। 




সহস বদন তুম্হরো যশ গাবৈ |


সহস = শত বা একশ;বদন = মুখ;তুম্হরো = তোমার;যশ = গুণগান;গাবৈ : গান করে |


বাংলা অনুবাদ  : শত শত মুখ তোমার গুনগান করবে।



অস কহি শ্রীপতি কংঠ লগাবৈ || তেরো ||


অস = এই;কহি = বলে;শ্রীপতি = রামচন্দ্র;কংঠ = গলা;লগাবৈ = লাগিয়েছিলেন।


বাংলা অনুবাদ  : শত শত মুখ তোমার গুনগান করবে এই বলে শ্রীরামচন্দ্র হনুমানজীকে গলায় জড়িয়ে নিয়ে ছিলেন।



সনকাদিক ব্রহ্মাদি মুনীশা |


সনকাদিক = এখানে দুটি শব্দ রয়েছে। সনক এবং আদিক। সনক বলতে সনক মুনিকে বলা হয়েছে। কে এই সনক মুনি জানেন? সনক হলেন হিন্দু পুরাণ অনুসারে চার কুমার অর্থাৎ চার ঋষির মধ্যে একজন। এদের সৃষ্টি করেছিলেন ব্রহ্মা। অন্য চারজন হলেন সনাতন কুমার,সনন্দন কুমার,সনকা কুমার। অনুমান করা হয় এই সনক কুমারই সনাতন ধর্ম প্রবর্তন করেন। আদিক = অন‍্যান‍্যরা। ব্রহ্মাদি = ব্রহ্মা এবং আদি বলতে অন‍্যান‍্যরা; মুনীশা = মুনীরা।



বাংলা অনুবাদ  : সনকা ও ব্রহ্মা সহ অন‍্যান‍্য মুনী ঋষিরা।



নারদ সারদ সহিত অহীশা || চোদ্দ ||


নারদ; সারদ : সরস্বতী; সহিত : সঙ্গে; অহীশা : শেষনাগ।


বাংলা অনুবাদ  : সনকা ও ব্রহ্মা সহ অন‍্যান‍্য মুনী ঋষিরা এবং নারদ,সরস্বতী সহ শেষনাগ আপনার গুণ কীওর্ন করেন।



যম কুবের দিগপাল জহাং তে |


যম = যমদেব;কুবের : কুবের অর্থাৎ ধন দৌলতের দেবতা; দিগপাল : দিক বলতে দশ দিক বা দিশা, পাল অর্থাৎ স্বামী বা প্রভু; আমাদের মোট দশটি দিক রয়েছে তাদের আলাদা আলাদা অধীশ্বর রয়েছে। এই দশ দিকের অধীশ্বরদের দিকপাল বলা হয়। যেমন : কুবের (উত্তর);যম (দক্ষিণ);ইন্দ্র (পূর্ব);বরুণ(পশ্চিম);ঈশান(উত্তর-পূর্ব);অগ্নি (দক্ষিণ পূর্ব);বায়ু (উত্তর-পশ্চিম);নিরতি (দক্ষিণ-পশ্চিম);ব্রহ্মা ( আকাশ ); বিষ্ণু ( ভূমি)।

জহাং  তে : সবাই মিলে।


বাংলা অনুবাদ  : যম,কুবের,দিকপাল গণ,কবি গণ, পন্ডিত গণ


কবি কোবিদ কহি সকে কহাং তে |পনেরো ||


কবি = কবিগণ, কোবিদ : পন্ডিতগণ; কহি : কেমন করে? কহাং : যশ করে।



বাংলা অনুবাদ  : যম,কুবের,দিকপাল গণ,কবি গণ, পন্ডিত গণও আপনার যশের বর্নণা করতে পারে না।



তুম উপকার সুগ্রীবহি কীন্হা | 


তুম;উপকার;সুগ্রীবহি : সুগ্রীবকে,কীন্হা করেছিলেন।


বাংলা অনুবাদ  : তুমি সুগ্রীবকে উপকার করেছিলেন।


রাম মিলায় রাজপদ দীন্হা || ষোল  ||


রাম;মিলায় : মিলিয়েছিলেন অর্থাৎ সাক্ষাৎ করিয়েছিলেন; রাজপদ = রাজার পদ;দীন্হা = দিয়েছিলেন।


বাংলা অনুবাদ  : তুমি সুগ্রীবকে উপকার করেছিলেন। কিভাবে উপকার করেছিলেন? আপনি সুগ্রীবকে শ্রীরাম চন্দ্রের সঙ্গে মিলিয়েছিলেন এবং তাকে তার রাজপদ ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। আপনারা সকলে জানেন অন‍্যায়ভাবে রাজ‍্য দখলকারী ভাই বালীকে শ্রীরামচন্দ্রের সহায়তায় সুগ্রীব যুদ্ধে হারিয়ে তার রাজ‍্য পুনরুদ্ধার করেন।




তুম্হরো মন্ত্র বিভীষণ মানা |


তুম্হরো : তোমার ;মন্ত্র : উপদেশ; বিভীষণ;মানা:মেনেছিলেন।


বাংলা অনুবাদ  : তোমার উপদেশ বিভীষণ মেনেছিল।



লংকেশ্বর ভয়ে সব জগ জানা || সতের ||


লংকেশ্বর = লঙ্কার অধিপতি; ভয়ে : হওয়া;  সব;জগ : জগৎ ;জানা : জেনেছিল।


বাংলা অনুবাদ  : তার পরিনামে তিনি লাঙ্কার অধীশ্বর হয়েছিলেন একথা জগতের সকলেই জানে।



বিভীষন আপনার পরামর্শ মেনে ছিলেন এবং তার পরিনামে তিনি লাঙ্কার অধীশ্বর হয়েছিলেন একথা জগতের সকলেই জানে।



যুগ সহস্র যোজন পর ভানূ |


যুগ : বারো হাজার বছরের সময় কালকে এক যুগ বলা হয়; সহস্র : হাজার; যোজন : যোজন। যোজন হল দূরত্বের একটি একক। এক যোজন বলতে  8 মাইল একট। পর : দূরে;ভানু : সূর্য।


বাংলা অনুবাদ  : এক যুগ সহস্র যোজন দূরে অবস্থিত যে সুর্যদেব



লীল্যো তাহি মধুর ফল জানূ || আঠারো  ||


লীল্যো : তাকে; তাহি : আপনি; মধুর : সুমিষ্ট;ফল;জানূ : জেনে।



বাংলা অনুবাদ  : এক যুগ সহস্র যোজন দূরে অবস্থিত যে সুর্যদেব তাকে আপনি মিষ্ট ফল মনেকরে গ্রহণ করতে উদ্যত হয়েছিলেন। হনুমানজী যখন শিশু ছিলেন তখন তার একবার খুব ক্ষিদে পায়। তখন তিনি সূর্য দেবকে মধুর ফল ভেবে ভক্ষন করতে গেলে গোটা পৃথিবী অন্ধকার হয়ে যায়। এই অবস্থায় সমস্ত দেব দেবীরা ভীত সন্ত্রস্ত্র হয়ে পড়লে তারা ইন্দ্রর কাছে যায় পৃথিবীকে বাচাঁতে। দেবরাজ ইন্দ্র হনুমানজীকে বজ‍্র প্রহার করলে হনুমানজী অজ্ঞান হয়ে পড়েন। সেই প্রহারের ফলেই হনুমানজীর চোয়াল একটু চ‍্যাপটানো।


এই চৌপাঈ থেকেই আমরা সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্ব পাই। অবাক হচ্ছেন? দেখুন তাহলে :


1 যুগ = 12000 বছর।

1 সহস্র = 1000

1 যোজন = 8 মাইল।

যুগ সহস্র যোজন = 12000 × 1000 × 8 মাইল 

                          = 96000000 মাইল।

1 মাইল = 1.6 কিলোমিটার।

96000000 মাইল = 15,36,000 কিলোমিটার।


এবার NASA প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্ব কত জানেন? দূরত্বটি হল প্রায় 14,96,000 কিলোমিটার।




প্রভু মুদ্রিকা মেলি মুখ মাহী |


প্রভু = এখানে প্রভু বলতে শ্রীরামচন্দ্রকে বলা হয়েছে;মুদ্রিকা : আংটি;মেলি = রেখেছিল;মুখ = মুখ;মাহী



বাংলা অনুবাদ  : আপনি শ্রীরামচন্দ্রের  আংটি মুখে।



জলধি লাংঘি গায়ী অচরজ নাহী || উনিশ ||


জলধি : জল রাশি। এখানে জলধি বলতে সাগরকে বোঝান হয়েছে। লাংঘি গায়ী = এক লাফে পার করেছিলেন;অচরজ = আশ্চর্য;নাহী = নেই।



বাংলা অনুবাদ  :আপনি শ্রীরামচন্দ্রের  আংটি মুখে নিয়ে সাগর এক লাফে পার করেছিলেন - এতে আশ্চর্যের কিছু নেই।


রামচন্দ্র যখন হনুমানজীকে সীতা মাতার খোঁজে পাঠালেন তখন তিনি হনুমানজীকে একটি আংটি সমেত পাঠিয়েছিলেন। এর পেছনে কারন ছিল। প্রথমত হনুমানজীর সঙ্গে রাম লক্ষনের সাক্ষাৎ হয়েছিল সীতামাতা অপহরণ হবার পর। তাই সীতামাতা হনুমানজীকে চিনতে পারবেন না এটাই স্বাভাবিক ছিল। তাই হনুমানজী যে শ্রীরামচন্দ্রেরই দূত তা বিশ্বাস করানোর জন‍্য সেই আংটি দেওয়া হয়েছিল। 


 

দুর্গম কাজ জগত কে জেতে |


দুর্গম = কঠিন বা দুস্কর;কাজ = কার্য;জগত = সংসার; কে = যত; জেতে = রয়েছে।



বাংলা অনুবাদ  : সংসারে যত দুষ্কর কাজ রয়েছে।



সুগম অনুগ্রহ তুম্হরে তেতে || কুড়ি  ||




সুগম = সহজসাধ‍্য; অনুগ্রহ =কৃপা; তুম্হরে : তোমার; তেতে = কারনে। 


বাংলা অনুবাদ  : সবই আপনার কৃপায় সহজসাধ্য হয়ে ওঠে।


সংসারে যত দুষ্কর কাজ রয়েছে সবই আপনার কৃপায় সহজসাধ্য হয়ে ওঠে।



রাম দুআরে তুম রখবারে |


রাম = রাম;দুআরে = দ্বারে বা দরজায়;তুম = তুমি; রখবারে = রক্ষাকর্তা।


বাংলা অনুবাদ  : শ্রী রামের দ্বারে আপনি রক্ষক।


হোত না আজ্ঞা বিনু পৈসারে || একুশ  ||


হোত = হয়;না;আজ্ঞা = অনুমতি;বিনু = বিনা বা ছাড়া;পৈসারে = প্রবেশ করতে।


বাংলা অনুবাদ  : আপনার অনুমতি ব্যতীত কেউ এখানে প্রবেশ করতে পারে না। অর্থাৎ আপনার কৃপা ছাড়া ভগবান রামের প্রতি ভক্তি লাভ হয় না।


শ্রী রামের দ্বারে আপনি রক্ষক। আপনার অনুমতি ছাড়া কেউ এখানে প্রবেশ করতে পারে না। 


সব সুখ লহৈ তুম্হারী শরণা |


সব;সুখ;লহৈ = নিয়ে;তুম্হারী = তোমার;শরণা = শরণে যাই।


বাংলা অনুবাদ  : তোমার শরণে আসার পর সব সুখ পাওয়া যায়।


তুম রক্ষক কাহূ কো ডর না || বাইশ ||


তুম = তুমি ;রক্ষক = যিনি রক্ষা করেন;কাহু : কিসের;কো ডর = ভয়;না || বাইশ ||


তোমার শরণে আসার পর সব সুখ পাওয়া যায়। তুমি যেখানে রক্ষক সেখানে কিসের ভয়?




আপন তেজ সমহারো আপৈ |


আপন = নিজের;তেজ = তেজ বা রাগ;সমহারো = সামাল দাও বা সামলাও; আপৈ = নিজেই।



বাংলা অনুবাদ  : আপনার তেজ একমাত্র আপনি সম্বরন করতে পারেন।


তীনোং লোক হাংক তে কাংপৈ || তেইশ ||


তীনহো = তিন; লোক = তিন লোক। স্বর্গলোক; মর্তলোক এবং পাতাললোক;হাংক = হুঙ্কার; তে = এ ;কাংপৈ = কম্পমান হয়।


বাংলা অনুবাদ  : আপনার হুংকারে ত্রিভুবন অর্থাৎ স্বর্গ,মর্ত ও পাতাল কম্পিত হয়।


আপনার তেজ একমাত্র আপনি সম্বরন করতে পারেন। আপনার হুংকারে ত্রিভুবন কম্পিত হয়।



ভূত পিশাচ নিকট নহি আবৈ |


ভূত;পিশাচ;নিকট = কাছে; নহি = না; আবৈ = আসবে।



বাংলা অনুবাদ  : ভূত পিশাচ সে নিকটে  আসতে পারে না।



মহাবীর জব নাম সুনাবৈ || চব্বিশ ||


মহাবীর = মহান বীর অর্থাৎ হনুমানজী;জব = যখন;নাম;শুনাবৈ = শুনবে অর্থাৎ উচ্চারিত হয়।


মহাবীর হনুমান এর নাম যেখানে উচ্চারিত হয় ভূত পিশাচ  সে নিকটে  আসতে পারে না।


ঠিক এই চৌপাঈ থেকে হনুমান চালিশা পড়বার গুরুত্ব বলেছেন তুলসীদাসজী।


বাংলা অনুবাদ  : যে ব‍্যক্তি ভূত,প্রেত এই সবের ভয় পান বা যে বাড়িতে এই সবের প্রভাব রয়েছে তারা যদি

নিয়মিত হনুমান চালিশা পাঠ করেন তাহলে এই ভূত পিশাচের ভয় আর থাকে না।


নাশৈ রোগ হরৈ সব পীড়া |


নাশৈ = নাশ;রোগ;হরৈ = হরণ করে বা বিনষ্ট করে; সব = সকল বা সর্বপ্রকার;পীড়া = ব‍্যাথা।


বাংলা অনুবাদ  : সর্বপ্রকার রোগ পীড়া বিনষ্ট হয়।



জপত নিরংতর হনুমত বীরা || পঁচিশ ||


জপত = জপ করে;নিরন্তর = নিরন্তর; হনুমত = হনুমানজী;বীরা = বীর।



বাংলা অনুবাদ  : নিরন্তর বীর হনুমানের নাম জপ করলে সর্বপ্রকার রোগ পীড়া বিনষ্ট হয়।


যদি কেউ বহুদিন ধরে কোন রোগে ভুগছেন, সমস্ত রকম চিকিৎসা করবার পরও যদি সে সুস্থ না হয় তাহলে সে যদি নিয়ম করে এই হনুমান চালিশা পাঠ করে তার রোগ ব‍্যাধি দূর হয়ে যাবে। কেও যদি শুধুমাত্র এই চৌপাঈটিও নিরন্তর জপ করে তারও রোগ ব‍্যাধি দূরে থাকবে।




সংকট সেঈ হনুমান ছুডাবৈ |


সংকট;সেঈ = সেই; হনুমান;ছুডাবৈ = দূর করবে।


বাংলা অনুবাদ  : সংকট থেকে হনুমানজী মুক্ত করবেন।



মন ক্রম বচন ধ্যান জো লাবৈ || ছাব্বিশ  ||


মন;ক্রম = কর্ম;বচন = কথা;ধ্যান;জো লাবৈ = আনবে।


বাংলা অনুবাদ  : সংকটে পতিত হলে শ্রী হনুমান এর নাম,মনে মনে  তাকে স্মরণ করে এবং ক্রমশ তাকে ধ্যান করলে সেই সংকট থেকে তাকে তিনি মুক্ত করেন।


যেকোন সংকটে কেও যদি নিরন্তর হনুমানজীর নাম জপ করেন এবং হনুমান চালিশা পাঠ করেন তার সংকট খুব তাড়াতাড়ি কেটে যায়।




সব পর রাম তপস্বী রাজা |


সব = সকল;পর = মধ্যে;রাম;তপস্বী;রাজা |


বাংলা অনুবাদ  : সকল রাজাদের মধ্যে তপস্বী শ্রীরাম  সকলের প্রভু।


তিনকে কাজ সকল তুম সাজা || সাতাশ ||


তিনকে = ওনার; কাজ;সকল;তুম;সাজা = সম্পন্ন করা। |


বাংলা অনুবাদ  : ওনার সকল কাজ তুমি সম্পন্ন কর।


সকল রাজাদের মধ্যে তপস্বী শ্রীরাম  সকলের প্রভু। ওনার সকল কাজ তুমি সম্পন্ন কর। 




ঔর মনোরধ জো কোয়ি লাবৈ |


ঔর = আর অর্থাৎ অনেক;মনোরধ = মনের বাসনা;জো = যে;কোয়ি = কেও;লাবৈ = আনবে দারস্ত হবে।


বাংলা অনুবাদ  : অন‍্য যে কোন মনের বাসনা নিয়ে আপনার দারস্ত হবে।



তাসু অমিত জীবন ফল পাবৈ || আঠাশ ||


তাসু = তার;অমিত = অসীম বা অনন্ত;জীবন;ফল;পাবৈ = পাবে বা লাভ করবে।



বাংলা অনুবাদ  : অন্য যে কোন মনোবাসনা নিয়ে যে আপনার দারস্ত হয়। সেই অনন্ত জীবনের জন্য সেই সব ফললাভ করে।


যেকোন মনোবাসনা পূরন করতে কেও যদি হনুমানজীকে স্মরণ করে রোজ হনুমান চালিশা পাঠ করে তাহলে তার মনোবাসনা খুব তাড়াতাড়ি পূর্ণ হয়।



চারো যুগ পরিতাপ তুম্হারা |


চারো = চার;যুগ = যুগ; চার যুগ বলতে সত‍্য,দ্বাপর,ত্রেতা এবং কলী যুগ।পরিতাপ = প্রতাপ;তুম্হারা = তোমার।


বাংলা অনুবাদ  : চার যুগ ধরে তোমার প্রতাপ।


হৈ পরসিদ্ধ জগত উজিয়ারা || উনত্রিশ ||



হৈ = হয়;পরসিদ্ধ = প্রসিদ্ধ; জগত = পৃথিবী বা জগৎ; উজিয়ারা = সমুজ্জল রয়েছে।


বাংলা অনুবাদ  : গোটা জগত জুড়ে তোমার নাম প্রসিদ্ধ রয়েছে।



সর্বজগতেই একথা প্রসিদ্ধ আছে যে চার যুগেই আপনার প্রতাপ সমুজ্জল ভাবে বর্তমান।


তুলসীদাসজীর এই চৌপাঈের মাধ্যমে এটা প্রমাণিত হয় যে হনুমানজী আজও আমাদের মধ্যে বতর্মান রয়েছে। এনিয়ে আমাদের Channel এ একটি Video রয়েছে সেটি পারলে দেখে নিন।



সাধু সন্ত কে তুম রখবারে |


সাধু;সন্ত;কে;তুম = আপনি;রখবারে = রক্ষক বা রক্ষাকর্তা।


বাংলা অনুবাদ  : সাধু সন্তদের আপনি রক্ষাকর্তা



অসুর নিকংদন রাম দুলারে || ত্রিশ ||


অসুর = অসুর বা রাক্ষস;নিকংদন = হত‍্যাকারী বা বিনাশকারী;রাম;দুলারে = প্রিয়।



বাংলা অনুবাদ  : সাধু সন্তদের আপনি রক্ষাকর্তা, অসুরদের বিনাশকারী এবং শ্রীরামচন্দ্রের একান্ত প্রিয়পাত্র।



অষ্ঠসিদ্ধি নবনিধি কে দাতা |


অষ্ঠসিদ্ধি = আটসিদ্ধি;নবনিধি = নয় নিধি;কে = এর; দাতা;


বাংলা অনুবাদ  : আপনি অষ্ঠসিদ্ধি এবং নবনিধির বর দান করতে পারেন।



অস বর দীন্হ জানকী মাতা || একত্রিশ ||


অস = এরুপ;বর;দীন্হ = দিয়েছেন;জানকী মাতা = সীতা মাতা।


বাংলা অনুবাদ  : সীতা মাতা আপনাকে এরুপ বর প্রদান করেছেন যে আপনি অষ্ঠসিদ্ধি এবং নবনিধির বর দান করতে পারেন।




বাংলা অনুবাদ : 


মাতা জনকীদেবী আপনাকে এরুপ বর দিয়েছিলেন যে, আপনি ইচ্ছা করলেই অষ্ট সিদ্ধি এবং  নয় প্রকারম সম্পদ দান করতে পারেন।


এবার আসি এই অষ্ঠসিদ্ধি এবং নবনিধির কোন গুলি। প্রথমেই আসি এই অষ্ঠসিদ্ধি কোন গুলি:


অনিমা - পরমাণুর আকারের মতো দেহকে ছোট করে দেবার সিদ্ধি বা শক্তি।


 মহিমা - অবিশ্বাস্যর আকারে শরীর প্রসারিত করার শক্তি।


 গারিমা - অসীম ভারী হয়ে ওঠার শক্তি।


 লাঘিমা  - ওজনকে নগণ্য বা প্রায় ওজনহীন করে তোলার শক্তি।


 প্রাপ্তি - বিশ্বের যে কোনও জায়গায় যাওয়ার শক্তি।


 প্রকাম্য - যে কেউ জানতে চায় তা জানার শক্তি।


 ইশত্ব  - মোট প্রভুত্ব অধিকারের ক্ষমতা। 


 বাস্তব - কারও কাছ থেকে জয়লাভ করার বা কাউকে বশীকরণ করার ক্ষমতা।  


নবনিধি গুলি হল :


  1. পদ্মনিধি।

  2. মহাপদ্মনিধি।

  3. শঙ্খনিধি।

  4. মকরনিধি।

  5. কচ্ছপনিধি।

  6. কুমুদনিধি।

  7. কুন্ডনিধি।

  8. নীলনিধি।

  9. খর্বনিধি।





রাম রসায়ন তুম্হারে পাসা |


রাম;রসায়ন = প্রেম ভক্তি; তুম্হারে = আপনার;পাসা = কাছে।



বাংলা অনুবাদ  : শ্রী রামের প্রতি প্রেমভক্তি আপনার বিদ্যমান রয়েছে।





সদা রহো রঘুপতি কে দাসা || বঁত্রিশ  ||



সদা = সর্বদা;রহো = থাকুন;রঘুপতি = শ্রীরামচন্দ্র;কে দাসা = দাস অর্থাৎ সেবক।


বাংলা অনুবাদ  : আপনি সর্বদা শ্রীরামচন্দ্রের সেবক হয়ে থাকুন এই কামনা করি।



তুম্হরে ভজন রামকো পাবৈ |


তুম্হরে = আপনার; ভজন;রামকো = রামজীকে;পাবৈ = পাওয়া যায়।


বাংলা অনুবাদ  : আপনার ভজন করলে শ্রীরামজীকে পাওয়া যায়।




জন্ম জন্ম কে দুখ বিসরাবৈ || তেঁত্রিশ  ||


জন্ম;জন্ম;কে;দুখ;বিসরাবৈ = শেষ হয়ে যায়।


জন্ম জন্মারের দুঃখ শেষ হয়ে যায়।






অংত কাল রঘুবর পুর জায়ী।


অংত = শেষ;কাল = সময়ে;রঘুবর = শ্রীরাম;পুর = যেস্থানে বসবাস করেন এখানে নিকট অর্থে ব‍্যবহার করা হয়েছে জায়ী = যায়।


বাংলা অনুবাদ  : শেষ জীবনে তিনি শ্রীরামের ধামে গমন করেন।



জহাং জন্ম হরিভক্ত কহায়ী || চৌত্রিশ ||


জহাং = যেখানেই;জন্ম;হরিভক্ত = শ্রীরামের ভক্ত;কহায়ী = বলা হয়।


বাংলা অনুবাদ  : যেখানেই তার জন্ম হোক না কেন তাকে শ্রীরামের ভক্ত বলা হয়।



ঔর দেবতা চিত্ত ন ধরয়ী |


ঔর = অন‍্য;দেবতা;চিত্ত = মন;ন = না;ধরয়ী = নিবিষ্ট


বাংলা অনুবাদ  : অপর কোন দেবতার প্রতি চিত্ত নিবিষ্ট না করেও





হনুমত সেয়ি সর্ব সুখ করয়ী || পঁত্রিশ ||


হনুমত = হনুমান;সেয়ি = সেবা করে;সর্ব;সুখ;করয়ী = প্রাপ্ত হয়।


বাংলা অনুবাদ  : কেবল হনুমানের সেবা করলে সর্ব সুখ প্রাপ্ত হয়।



অপর কোন দেবতার প্রতি চিত্ত নিবিষ্ট না করেও কেবল হনুমানের সেবা করলে সর্ব সুখ প্রাপ্ত হয়।


এখানে তুশসীদাসজী বলতে চেয়েছেন যে হনুমানজী খুব অল্প ডাকেই সাড়া দেন। তাকে প্রসন্ন করলে এই জগতে এমন কোন সুখ নেই যে পাওয়া যায় না।



সংকট কটৈ মিটৈ সব পীরা |


সংকট;কটৈ = কেটে যায় বা দূর হয়ে যায়। মিটৈ সব পীরা = রোগ ;সমস্ত রোগ পীরা মিটে যায়।


বাংলা অনুবাদ  : সমস্ত সংকট ও রোগ দূর হয়ে যায়।


জো সুমিরৈ হনুমত বল বীরা || ছঁত্রিশ ||


জো = যে;সুমিরৈ = স্মরণ করে;হনুমত;বল;বীরা = বীর।


বাংলা অনুবাদ  : যিনি মহাবলবাণ হনুমানজীকে স্মরণ করেন।


যিনি মহাবলবাণ হনুমানজীকে স্মরণ করেন তার 

সমস্ত সংকট ও রোগ দূর হয়ে যায়।


যিনি কোন মারাত্মক রোগে ভুগছেন বা কারও ঘোরতর সঙ্কট সে যদি নিয়মিত এই হনুমান চালিশা মন্ত্র পাঠ করেন এবং সর্বদা হনুমানজীকে স্মরণ করেন তাহলে তার রোগ দূর হয়ে যায় এবং সংকট কেটে যায়। এই চৌপাঈের মাধ্যমে বোঝাযায় যে রোগ ব‍্যাধি ও সঙ্কট দূরে রাখতে নিয়মিত হনুমান চালিশা পাঠ করা এবং হনুমানজীকে স্মরণ করা উচিৎ।



 


জৈ জৈ জৈ হনুমান গোষায়ী |


জৈ জৈ জৈ = জয়; হনুমান;গোষায়ী = প্রভূ


বাংলা অনুবাদ  : হে প্রভু হনুমানজী আপনার জয় হোক।


কৃপা করো গুরুদেব কী নায়ী || সাঁইত্রিশ ||

কৃপা;করো;গুরুদেব;কী নায়ী = মত |


বাংলা অনুবাদ  : আপনি গুরুদেবের মত আমাদের কৃপা করুন।




জো শত বার পাঠ কর কোয়ী |


জো = যিনি;শত বার = একশত বার;পাঠ কর কোয়ী


বাংলা অনুবাদ  : যিনি একশত বার পাঠ করে।


ছূটহি বন্দি মহা সুখ হোয়ী || আঁটত্রিশ ||


ছূটহি = ছুটে যায় ;বন্দি = বন্ধন ;মহা = মহান;সুখ;হোয়ী = হয়।


বাংলা অনুবাদ  : তার সমস্ত বন্ধন মুক্ত হয়ে তার মহা সুখ প্রাপ্ত হয়।


এখানে তুলসীদাসজী বলেছেন কতবার হনুমান চালিশা পাঠ করলে ফল পাওয়া যায়। 



এই হনুমান চালিশা যে শত বার পাঠ করবে তার বন্ধনমুক্তি ঘটবে এবং সে প্রভূত সুখ সৌভাগ্য লাভ করবে।



জো য়হ পডৈ হনুমান চালীসা |



জো = যে / যিনি;য়হ = এই;পডৈ = পড়ে;হনুমান চালীসা


বাংলা অনুবাদ  : যে / যিনি এই হনুমান চালিশা পড়ে 



হোয় সিদ্ধ সখী গৌরিশা || উনচল্লিশ ||



হোয় = হয় ;সিদ্ধ;সখী = প্রমাণ;গৌরীশা = এখানেও দুটি শব্দ রয়েছে। গৌরি অর্থাৎ পার্বতী আর ঈশ অর্থাৎ স্বামী  এর অর্থ হল পার্বতীর স্বামী অর্থাৎ মহাদের শিব। 


তারই সিদ্ধি লাভ হয় স্বয়ং মহাবীর তার প্রমাণ।


বাংলা অনুবাদ  : যে / যিনি এই হনুমান চালিশা পড়ে,তারই সিদ্ধি লাভ হয় স্বয়ং মহাবীর তার প্রমাণ।



তুলসীদাস সদা হরি চেরা |


তুলসীদাস;সদা = সর্বদা;হরি = হরি বলতে এখানে ভগবান রামচন্দ্রকে বোঝান হয়েছে। আসলে ভগবান বিষ্ণুকেই হরি বলা হয়। আর ভগবান রামই হল বিষ্ণুর রুপ ; চেরা = দাস বা সেবক।


তুলসীদাসজী সর্বদাই শ্রীরামের দাস।


কীজৈ নাথ হৃদয মহ ডেরা || চল্লিশ  ||


কীজৈ = করুন;নাথ = প্রভু;হৃদয়;মম = আমার;ডেরা = বাসস্থান। 


বাংলা অনুবাদ  : হে প্রভু আমার হৃদয়টিতে আপনি বাস করুন।



তুলসীদাস সদাসর্বদাই শ্রী হরির সেবক,দাসানুদাস। হে প্রভু আপনি আমার হৃদয়টিতে বাস করুন।


দোহা



পবন তনয় সংকট হরণ - মংগল মূরতি রূপ্ |


পবন;তনয় = পুত্র;সংকট;হরণ = নাশ করে;মংগল মূরতি = মূর্তি। এই মূর্তি হল কোন কিছুর প্রতীক। হনুমানজী মঙ্গলের প্রতীক।;রূপ্;



বাংলা অনুবাদ  : হে পবনের পুত্র সংকট মোচনকারী আপনি মঙ্গলের প্রতীক।




রাম লখন সীতা সহিত - হৃদয বসহু সুরভূপ্ ||


বাংলা অনুবাদ  : রাম;লখন;সীতা;সহিত - হৃদয়;বসহু = বসে আছেন বা অবস্থান করছেন ; সুরভূপ্ = সুর কথার অর্থ হল ভগবান বা দেবতা ||


হে ভগবানের রাজা আপনি আমার হৃদয়ে বাস করুন রাম লক্ষন সীতা সমেত।




Hanuman Chalisa word by word meaning Video :



























Jay Sri Ram

২০২১ সালের দুর্গা পূজার নির্ভূল নির্ঘন্ট

          ২০২১ সালের দুর্গা পূজার নির্ভূল নির্ঘন্ট এবছর তথা ২০২১ সালের বাঙ্গালীর শ্রেষ্ঠ উৎসব দূর্গা পূজা প্রায় আসন্ন। হাতে মাত্র আর কয়েক দি...