Pages

Sunday, May 17, 2020

আপনি কি খুব সমস্যার মধ্যে রয়েছেন? তাহলে এটা আপনার জন্য।

Solve Any Problem In Life within a Minute


Solve any problem in life within a life
Solve any problem within a Minute


আপনি কি খুব সমস্যার মধ্যে রয়েছেন? কি করবেন বুঝে উঠতে পারছেন না? কখনও কখনও আমাদের জীবনে এমন সময় আসে। যে চারিদিকের রাস্তা একদম বন্ধ। সমস্যা যখন আসে তখন চারিদিক থেকে আসে। মানুষ একদম একা পড়ে যায়। এই অবস্থা থেকে আপনি কি করে মুক্তি পাবেন তা জানার জন্য একবার এই লেখাটি পুরোটা পরবেন। আশাকরি আপনার কাজে লাগবে।



  • পূর্বাভাসের ওপর ভিত্তি করে আমরা ভবিষ্যতের সুখ দুঃখের কল্পনা করি। ভবিষ্যতে দুঃখ দূর করার জন্য আমরা আজ পরিকল্পনা করি। কিন্তু কালকের সঙ্কটকে দূর করার জন্য আমরা আজ পরিকল্পনা করে থাকি। কালকের সঙ্কট নিয়ে আজকে দুঃশ্চিন্তা করে আমাদের লাভ হয় না ক্ষতি হয় তা আমরা কখনই চিন্তা করি না। সত্যি কথাতো এটাই যে "সঙ্কট ও তার থেকে মুক্তি " এদের দুজনের সুসম্পর্কতো সাত জন্মের। জগৎ সংসারের এই নিয়ম ব্যক্তির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য সৃষ্টির ক্ষেত্রও প্রযোজ্য। বিশ্বাস হছে না? আপনি আপনার জীবন অতীতকে স্মরণ করুন। ইতিহাসকে দেখুন। আপনি দেখতে পারবেন যখন যখন সঙ্কট এসেছে তখন তখন তা নিবারণ করার শক্তিও জন্ম নেয়। এটাইতো জগতের নিয়ম। আসলে সঙ্কটই শক্তির সৃষ্টির কারণ। আমাদের জীবন সঙ্কট হল আমাদের কাছে একটা নিজেকে বদলানোর সম্ভাবনা। নিজের বিচার বুদ্ধিকে ফুটিয়ে তোলার একটি সুযোগ। নিজের আত্মাকে বলবান ও জ্ঞানবান বানানোর সুযোগ। যে এগুলো করতে পারে  সে সঙ্কট মুক্ত হয়। যে পারে না, সব ভাগ্যের ওপর ছেড়ে ভাগ্যকে দোষারোপ করে সে নিজেই এই সংসারে এক সঙ্কট।
  • কখনো কখনো আমাদের জীবনে কোন কোন ঘটনা জীবনকে তছনছ করে দেয়।আমরা সেই ঘটনাটা জীবনের কেন্দ্রবিন্দু মনে করে বসে থাকি। তাহলে ভবিষ্যৎ কি আমার আপনার চিন্তার উপরে ঠিক হয়?আমরা বর্তমান অবস্থার ওপর বিচার করে আমরা যে ভবিষ্যতের আমাদের অবস্থান ঠিক করি তাই কি আমাদের ভবিতব্য? যে ব্যক্তি পাহাড়ের চূড়ায় ওঠে সেই ব্যক্তি পাহাড়ের নিচে বসে থেকে যে পরিকল্পনা বানায় সেই পরিকল্পনাযই কি তাকে পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছে দেয়? না। কখনই না। বাস্তবে তো সে যতই উপরে উঠতে থাকে তত তার সামনে নতুন নতুন সঙ্কট এসে হাজির হয়। প্রতিপদে তার পরিকল্পনা বদল করতে হয়। কারণ পুরনো পরিকল্পনা তাকে যেকোনো সময় পাহাড়ের ফাঁদে ফেলে দিতে পারে। সে পর্বত কে নিজের যোগ্য বানাতে পারেনা সে নিজে পর্বতের যোগ্য হয়ে ওঠে। আমাদের জীবনের সঙ্গে কি এটা হয় না? যে জীবনের একটা সঙ্কটকে জীবনের কেন্দ্রবিন্দু বলে মনে করে জীবনের হার মেনে নেয় সে জীবনে কখনোই এগোতে পারে না। অর্থাৎ জীবনকে নিজের যোগ্য বানানোর বাদলে নিজেকে  জীবনের যোগ্য বানান।


Why Me :


এবার আপনি ভাবছেন এই ব্লগার মহাশয় বড় বড় জ্ঞান দিচ্ছেন। আপনি ভাবছেন আপনার সঙ্গে যা হয়েছে তা আমার সঙ্গে হলে আমি এই ভাষন গুলো দিতে পারতাম না। কিন্তু বিশ্বাস করুন উপরের ওই কথা গুলো একটাও আমার না। এই কথাগুলি শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বলেছিলেন। কথা গুলি গীতার। এবার আপনার মনের মূল যে প্রশ্নটি ঘুরছে সেটা বলছি। সেটি হল আমারই এমন অবস্থা কেন? সব কষ্ট আমারই কেন? Why Me? হয়ত আপনার চিন্তা এই জায়গার একটু ভুল। সুখ দুঃখ দুটোই গতিশীল আমাদের জীবনের মত। কোনটাই স্থায়ী নয়। তবে দুঃখটাইকি শুধু আপনার জন্য বরাদ্দ? উওরে বলতে পারি না। আপনার জীবনে আরও অনেক কিছু আছে যা হয়ত অনেকের কাছেই নেই। আসলে আপনার কাছে যা রয়েছে আপনি তার অনুপস্থিতি অনুধাবন করতে পারছেন না।

এবার আপনাকে কিছু কথা বলি। রামচন্দ্রের মত একজন ঈশ্বরকেও কেন চোদ্দ বছরের বনবাসে যেতে হয়েছিল? অর্থাৎ ওনাকে কেন এই চোদ্দ বছরের কষ্ট সহ্য করতে হয়েছিল? রামজীতো ভগবান বিষ্ণুর অবতার ছিলেন তাও কেন তাকে ঐ কষ্ট ভোগ করতে হয়েছিল? আচ্ছা এবার মহাভারতের একটি উদাহরণ দাওয়া যাক। মহাভারতে পান্ডবদের বারো বছর বনবাস আর এক বছর অজ্ঞাত বাসে কেন যেতে হয়েছিল? তারাও দেবপুএ এত ক্ষমতাবান ছিলেন? তাহলে আশাকরি এই প্রশ্নের উওর পেলেন যে শুধু আপনি একা সমস্যা বা কষ্টে নেই। জীবনে এই কষ্টের সমটা দিয়ে সবাইকেই যেতে হয়।



How to Solve Problem :


এবার প্রশ্ন হল এই সমস্যার মধ্যে থেকে কি করে বেড়িয়ে হয়ে আসবো? এবার এর উওরটি খোঁজা যাক :

প্রথমে আপনি আপনার সমস্যাটার বিশ্লেষণ করুন। আপনার সমস্যাটি ঠিক কোথায়? দরকার পড়লে একটি কাগজে লিপিবদ্ধ করুন। এরপর আপনি একটু ভাবুন যে আপনার সমস্যাটির ভবিষ্যতে আপনার জীবনে কি কি প্রভাব ফেলতে পারে। এরকম অনেক সমস্যা রয়েছে যা সুদূর ভবিষ্যতে কোন প্রভাবই ফেলে না। আপনি আপনার জ্ঞানের পরিধি বাড়ান। আসলে অজ্ঞানতা আমাদের মনকে সংকীর্ণ করে দেয়। জ্ঞান একটি প্রকাশ যা আমাদের জীবনের  দীশা দেখায়।


Basic Solution of Any Problem :


 এবার আসি যেকোন সমস্যার এক মৌলিক সমাধান নিয়ে তা হল ভগবানের ওপর ও সঙ্গে নিজের ওপর ভরসা। গীতায় বলা রয়েছে যে ব্যক্তি ভগবানের ওপর বিশ্বাস রাখে না আর নিজের ক্ষমতার ওপর সন্দেহ করে তার ধ্বংস অবশ্যাম্ভাবী। সমস্যা বা বিপদের সময় আপনি আপনার যে কোন ইষ্ট দেবতার কাছে মন থেকে প্রার্থনা করুন আর আপনার বিপদ ভগবানের ভরসায় ছেড়ে আপনি আপনার কর্ম করে যান। আপনি সঙ্কট মোচন হনুমানজীর আরাধনা করতে পারেন। আপনি হনুমান চালিসা পাঠ করতে পারেন। হনুমাজীকে কিন্তু সংকোট মোচন বলা হয়ে থাকে। আথবা আপনি যেকোন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করতে পারেন। দরকারে নিকটবর্তী ঐ ভগবানের মন্দিরে অবশ্যই যান সম্ভব হলে। কারণ কোন মন্দিরের পরিবেশ এমন থাকে যেখানে আপনার মনের খারাপ চিন্তা গুলো আসে  না। বিশ্বাস করুন ভগবান কিন্তু কাউকে খালি হাতে ফেরায় না। আপনি যদি কোন দিশা খুঁজে না পান তবে ভগবানের কাছে শুধু হাত জোড় করে আপনার সমস্যাটি বলুন। বলুন "ভগবান পথ দেখাও। আমাকে উদ্ধার কর।" তারপর ভগবানের ওপর সব কিছু ছেড়ে দিয়ে আপনি আপনার কর্ম করে যান। তবে একথা মাথায় রাখবেন অবশ্যই আপনার কর্ম কিন্তু আপনাকেই করতে হবে। কারণ ভগবান তাদেরই সাহায্য করে যারা নিজের সাহায্য নিজেই করে।

সবশেষে বলি সমস্যা বা সঙ্কট আমাদের মনুষ্য জীবনের ঋতু পরিবর্তনের মত। কোনটাই স্থায়ী নয়। সমস্যা গুলি আপনাকে আমাকে নতুন কিছু শিখিয়ে দিয়ে যায়। শ্রীরামচন্দ্রের বনবাসের সময় তিনি অনেক মণি ঋষির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে অনেক ব্রহ্মাস্ত্র পেয়েছিলেন  যে গুলি তিনি লঙ্কা যুদ্ধের সময় ব্যবহার করেন। কিন্তু এই সঙ্কট বা সমস্যার সময়টা হল নিজেকে অন্যভাবে তৈরি করার। এই সমস্যা আপনার চোখ খুলে দেয়। এই সময় আপনি থেমে না গিয়ে যদি ভগবানকে ভরসা করে এগিয়ে যেতে পারেন তবেই আপনি ভবিষ্যতে সুখের আলো দেখতে পাবেন। কালের নিয়মে আপনার সমস্যা একদিন আপনার জীবন থেকে অবশ্যই চলে যাবে। 

1 comment: